আইসিসির ম্যাচ রেফারির এলিট প্যানেলে জায়গা হারানোয় ভীষণ হতাশ ক্রিস ব্রড। কাজ চালিয়ে যেতে চাইলেও তাকে সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। ইংল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটারের দাবি, ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব ছাড়তে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার ১৪ বছর পর ম্যাচ রেফারি হিসেবে পথচলা শুরু করেন ব্রড। হ্যামিল্টনে ২০০৩ সালে নিউ জিল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ম্যাচ রেফারি হিসেবে অভিষেক তার। সময়ের সঙ্গে খেলাটির খ্যাতনামা অফিসিয়াল হয়ে ওঠেন ইংলিশ গ্রেট স্টুয়ার্ট ব্রডের বাবা ক্রিস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি লড়াইয়ে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করাদের তালিকায় তৃতীয় ক্রিস ব্রড। পুরুষদের ক্রিকেটে ৬২২ ম্যাচে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউ জিল্যান্ডের জেফ ক্রোকে তিন ম্যাচে জন্য টপকাতে পারলেন না ব্রড। ৭৬৩ ম্যাচে এই দায়িত্ব পালন করে সবার শীর্ষে শ্রীলঙ্কার রাঞ্জান মাদুগালে। নারীদের ১৫টি টি-টোয়েন্টিতেও ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ব্রড। গত মার্চে আইসিসির দেওয়া এলিট প্যানেলে জায়গা হারান অভিজ্ঞ এই অফিসিয়াল। সম্প্রতি ‘বেস্ট পেআউট অনলাইন স্লটসে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রড বলেন, এলিট প্যানেল থেকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল আইসিসি। টেস্ট ইতিহাসের সফলতম পেসার জেমস অ্যান্ডারসনকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তে ইংলিশ কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ক্রিকেট পরিচালক রব কির প্রভাব নিয়ে ব্রডকে জিজ্ঞাসা করা হয়। সেটার উত্তর দিতেই মূলত নিজের প্রসঙ্গ টেনে আনেন সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। “যেকোনো কর্মীকে তার নিয়োগ কর্তার নির্দেশে চলতে হয়। জিমির বয়স ৪১ এবং সবার চোখ অ্যাশেজের দিকে, যা ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক লড়াই। অ্যাশেজের সময় তার বয়স হতে পারে ৪২ বা ৪৩ বছর। তার ফিটনেস এখন দারুণ, কিন্তু কে জানে দুই বছর পর সে কেমন অবস্থায় থাকবে। ভবিষ্যতের দিকে নজর রাখতে হবে।” “আমারও একই অবস্থা, আমি আইসিসির রেফারি হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ক্ষমতাসীনরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমার সময় শেষ এবং তাদের সিদ্ধান্ত আমার মেনে নিতে হবে। জিমিকেও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সে খেলাটি থেকে হারিয়ে যাবে।” সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের দুটি টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন ৬৬ বছর বয়সী ব্রড। এই পেশায় তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এখানেই সমাপ্তি।