রাজীবপুর উপজেলায় ৯৫০ পিছ বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন সহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাতে রাজীবপুর থানার এসআই তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী'র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিষিদ্ধ এই ইনজেকশন জামালপুর জেলার ইসলাম পুর উপজেলার বাবু মিয়া(৩৯), দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার পারুল বেগম(৪৫) ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার নুর নাহার ওরফে নুর জাহান'কে(৪০) আটক করে।
এসম তাদের কাছ থেকে ৩টি ব্যাগ থেকে ৯৫০ পিছ বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
রাজীবপুর থানা পুলিশের পক্ষথেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনা কারী এসআই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার স্লুইস গেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তল্লাশি কালে একজন পুরুষ ও দুই নারী যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করলে তাদের কাছে বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন পাওয়া যায়। পরে জিজ্ঞাবাদা তারা জানায় এগুলো নেশাদ্রব্য হিসাবে মানুষ শরীরে পুশ করে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন, যা ভয়াবহ মাদক হিসেবে পরিচিত। তীব্র ব্যথানাশক হিসেবে একসময় এটি ব্যবহার হলেও মাদক কারবারিরা এখন এটি মাদক হিসেবে শরীরে পুশ করছে।
বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন সাধারণত ব্যথানাশক হিসেবে শরীরে প্রয়োগ করা হয়। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শেই ইনজেকশনটি ব্যবহার করা যায়। তবে এটি এখন মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে পরিমাণ উপাদান থাকলে এটি ব্যবহারের অনুমতি ছিল তার চেয়ে বেশি নেশাদ্রব্য মিশিয়ে এখন এটি ছাড়া হচ্ছে বাজারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক কারবারিরা ভারত থেকে নিয়ে আসছে মাদকটি। পণ্যেটি দেশের বাজারে প্রতি পিছ প্রায় ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।
বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনটা সরাসরি ভেইনে নেয়া হয়। নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদকের প্রতিক্রিয়া তার শরীরে দেখা দেয়। বিশেষ করে রাস্তায় যেসব ভাসমান লোকজন আছে, যারা মাদকসেবন করে তারা এটি ব্যবহার করে। বিশেষ করে প্যাথেডিন এবং হেরোইন নিয়েও যাদের কাজ হয় না, তারা এ মাদকটি ব্যবহার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আশিকুর রহমান পিপিএম বলেন,আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।