কোরিয়ান মুভির জম্বিদের মতই যেন অনি:শেষ প্রাণ ছিল সন হিউং মিনের এবারের দক্ষিণ কোরিয়ার। শেষ মুহূর্তের গোল, নাটকীয়তায় কোন না কোনভাবে ম্যাচ জিতে ঠিক বেরিয়ে যাচ্ছিল তারা। সৌদি আরবের বিপক্ষে শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ের গোলে সমতা ফিরিয়ে সে ম্যাচ জেতে তারা টাইব্রেকারে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও প্রায় চিত্রনাট্য। ৯৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে সনের গোলে সেমিতে পা রাখা। তার আগে গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষেও যোগ করা সময়ের গোলে তারা ড্র করে। পতন থেকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর এই ধরন এশিয়ান কাপে কোরিয়ান সমর্থকদের কাছেই তা জনপ্রিয়তা পায় ‘জম্বি ফুটবল’ নামে। অবশেষে নায়কদের কাছেই হার সেই জম্বিদের। সেমিফাইনালে এই দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে জর্ডান কোচ হুসেইন আমুতা তাঁর শিষ্যদের সেভাবেই আখ্যায়িত করেছেন, ‘আমার ছেলেদের নায়কোচিত পারফরম্যান্সেই আজ এই জয়।’ ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘আমি কখনো দেখিনি, কোন দল তার প্রতিপক্ষের চেয়ে কম চেষ্টা, কম মনোযোগ ও কম ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ম্যাচ জিতে যেতে।’ জর্ডানের নায়কদের সেই আত্মপ্রত্যয়ী ফুটবলেই শেষ অবধি হার প্রায় অনি:শেষ প্রাণ জম্বিদেরও। জর্ডানের আক্রমনাত্মক, লড়াকু ফুটবলে এদিন যেন কোন জবাবই ছিলনা ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের কোরিয়ার। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আল নাইমত ও ৬৬ মিনিটে আল তামারির গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়া জর্ডান প্রথমবারের মত এশিয়ান কাপের ফাইনালে খেলার সে সুযোগটা আর নষ্ট করেনি। ক্লিন্সম্যানও স্বীকার করেছেন, সেরা দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে জর্ডান। সন মেনে নিয়েছেন, তাদের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিল না ফাইনালে ওঠার জন্য। এএফপি