নিরবেই কেটে গেল শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ৫২তম মৃত্যুবাষির্কী। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ৫২তম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও এর ব্যতিক্রম হয়েছে তার নিজ জম্মস্থান বাবুগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে বাবুগঞ্জ উপজেলা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কিংবা অন্য কোনো সংস্থা শহীদ বীরশ্রেষ্ঠের মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে স্মরন সভার কোনো আয়োজন করেনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, শহীদ বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কিভাবে তার ভাইয়ের মৃত্যু বাষির্কী ভুলে গেলেন। বৃহস্পতিবার শহীদ বীরশ্রেষ্ঠের জম্মভ’মি উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে রহিমগঞ্জ গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজে ৫২তম মৃত্যুবাষির্কী পালন করেছেন। শহীদ বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আলাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও রিপন চন্ত্র গয়ালীর সঞ্চালয়নায় কলেজের হলরুমে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখেন বীরশ্রেষ্ঠের ভাতিজা মোঃ মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আঃ মালেক, শিক্ষার্থী মোসাঃ নুরজাহান প্রমূখ। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আঃ করিম হাওলাদার বলেন, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠের মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা পৃথকভাবে পালন করেনি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর চাঁপাইনবাবগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করতে গিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে (১৪ ডিসেম্বের) পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মহানন্দা নদী তীরের বারঘরিয়ায় অবস্থানের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরকে শত্রুমুক্ত করতে ১৪ ডিসেম্বর ভোররাতে ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর তার বাহিনী নিয়ে নৌকাযোগে নদী পার হয়ে রেহাইচর গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর শত্রুবাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। এ সময় ধ্বংস করে দেন শত্রু বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২টি বাংকার। বীরযোদ্ধা ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একপর্যায়ে একটি গুলি এসে তার কপালে লাগে। সেখানেই শাহাদাতবরণ করেন বাংলা মায়ের এই বীর সন্তান। পরে ১৫ ডিসেম্বর শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরকে ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।