প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। নকুল কুমার বিশ্বাস জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, তার পূর্ব পুরুষ উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের পটিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এখান থেকে মাদারীপুর গিয়ে তারা বাড়ি করেছেন। তাই পূর্ব পুরুষের এলাকা বরিশাল-২ আসন থেকে তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গামছা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, আমারতো এখানে কিছুই নেই। তাই বামরাইল ইউনিয়নের মুলপাইন গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক নির্মলেন্দু সিকদার আমাকে ২১ শতক জমি দান করেছেন। সেই জমিতে আমি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। গত ১০ ডিসেম্বর কাজের উদ্বোধণ করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা নকুল কুমার বিশ্বাস বিএ পাস। এর আগে কখনো তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, সঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার তার প্রধান পেশা। এই পেশায় বছরে তার ১০ লাখ ৯১ হাজার ৩০৭ টাকা আয় হয়। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮০২ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ। একটি টেলিভিশন, একটি ফ্রিজ, চারটি ফ্যান, দুইটি খাট, এক সেট সোফা, একটি ডাইনিং টেবিল। তার নিজ নামে দেড় একর কৃষি ও ১২ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া একটি দ্বিতল বিল্ডিং, একটি টিনের ঘর রয়েছে। তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার মূল্য ১০ লাখ টাকা। একটি মৎস্য খামার রয়েছে ৫০ লাখ টাকা সমমূল্যের। আর ঘটকের চর কৃষি ব্যাংকে তার পাঁচ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।
কৃষকের বাড়ির উঠানে বসে ভাত খেলেন বঙ্গবীর ॥ নিজ দলের প্রার্থীর বাড়ি নির্মাণ কাজের উদ্বোধণ করতে গিয়ে এক কৃষকের বাড়ির উঠানে পাটি বিছিয়ে ভাত খেয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বঙ্গবীরের এমন মানসিকতাকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছেন। উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের কুচিয়ারপাড় গ্রামের গৌরাঙ্গ লাল দাস বলেন, উপস্থিতভাবে যা ছিল তা দিয়েই তিনি (কাদের সিদ্দিকী) দুপুরের খাবার খেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যার এতো বড় অবদান, এর আগে তাকে শুধু নামেই চিনতাম। কিন্তু যখন আমাদের বাড়িতে এসেছেন, আপ্যায়ন গ্রহণ করেছেন তখন আমার পরিবারসহ গ্রামবাসী হতবাগ হয়ে গিয়েছি। সত্যি আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনোনীত প্রার্থী নকুল কুমার বিশ্বাস বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তার নির্মাণাধীন বাড়ির উদ্বোধণ করতে এসেছিলেন। ওইদিন তিনি (কাদের সিদ্দিকী) কুচিয়ারপাড় গ্রামের গৌরাঙ্গ লাল দাসের বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবীরের ওইদিনের দুপুরের খাবারের মেন্যু ছিলো অত্যন্ত সাদামাটা। গ্রামের কৃষক গৌরাঙ্গ লাল দাস যা আয়োজন করেছেন তা দিয়েই বঙ্গবীর তৃপ্তি সহকারে বাড়ির উঠানে বসে খেয়েছেন। সেদিনের খাবারের মেন্যুতে ছিল ডিম ভাজি, আলুর তরকারি ও সাদাভাত।