আজ থেকে ৪০০ বছর আগে এই অঞ্চলে বসবাসরত বেশ ক’জন হিন্দু জমিদার তাদের প্রয়োজনে বাবুগঞ্জ উপজেলা সদরে একটি বাজার মেলায়। বর্তমানে জেটি বাবুগঞ্জ বাজার নামে বেশ পরিচিত। ঐ সময় এ অঞ্চলের লোকজন জমিদারদের বাবু বলে সম্বোধন করত। আর বাজারটিকে তারা অভিহিত করত গঞ্জ বলে। ফলে জমিদার বাবুদের মেলানো গঞ্জ থেকেই বাবুগঞ্জ বাজারের নামকরণ। অন্য এক তথ্যানুসারে বলা হয় যে, যশোর পরগনার জমিদার ‘বাবু বিরাজ রায় চৌধুরী’ এই অঞ্চল প্রাপ্ত হয়ে এখানে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র বা গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। বাবু বিরাজ রায় চৌধুরীর নামানুসারে এলাকার নাম হয় বাবুগঞ্জ। কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার তার জৌলস হারাতে বসেছে। কারণ হিসেবে গ্রামে গ্রামে বাজার প্রতিষ্ঠা হওয়া, বাবুগঞ্জ বাজারের রাস্তাঘাটের বেহালদশা, যুগের পর যুগ বাবুগঞ্জ বাজারের কোন উন্নয়ণমূূলক কাজ না হওয়া। বাবুগঞ্জ বাজারের প্রবেশদ্বারের মূূল সড়কটি বছরের পর বছর ভাঙাচোরা খানাখন্দে বেহাল দশা থাকার পর বরিশাল জেলা পরিশদের তৎকালীন সদস্য ফারজানা বিনতে ওহাব এর প্রচেষ্টায় কিছুটা সংস্কার হয়েছিলো। গেল ১৭ নভেম্বর ঘুর্নিঝড় মিধিলার প্রভাবে অতিরিক্ত বর্ষন ও পানিবৃদ্ধির কারণে বাজারের মূল প্রবেশদ্বারের রাস্তাটি সিসি ঢালাই সহ অর্ধেকটাংশ পাশের খালের দিকে ঝুঁকে পরেছে ফলে এ সড়ক দিয়ে বাজারের কোন ধরণে পন্যবাহী গাড়ি, মোটরবাইক প্রবেশ করতে পারেন না। এমনকি সাধারণের চলাচলেও বেশ ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এ বাজরের ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম কম হচ্ছে। দুটি ব্যাংকসহ আর্র্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের গাড়ি প্রবেশেও বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগে না নিলে পাশের খালে রাস্তাটির সম্পূর্ণ অংশ দেবে যেতে পারে বলে মনে করছেন এখানকার ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। এ রাস্তাটি সংস্কারের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুর রাজনৈতিক সচিব মুকিতুর রহমান কিসলুকে অবহিত করা হলে তিনি সংস্কারের আশ্বাস প্রদান করেছেন, কিন্তু বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও এটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার যাতায়ত নিরাপদ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের দৃষ্টি কামনা করেছেন বাজারের আগত ক্রেতা, বিক্রেতা,ও রাস্তাটি ব্যবহারকারীরা।