মুলাদীতে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এ.কে.এম সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা আত্মসাৎ, নিয়মিত অফিস না করা, প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন এক কর্মকর্তা। তবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এ.কে.এম সহিদুল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেধরে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এ কে এম সহিদুল ইসলাম ২০২২ সালে মুলাদী উপজেলায় যোগদানের পর থেকে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজে অনিয়ম শুরু করেন। চলতি বছর অক্টোবর মাসে ‘ইমপ্যাক্ট’ প্রকল্পের প্রশিক্ষনার্থীদের ১৫০টাকার খাবারের পরিবর্তে ২৫-৩০ টাকার নাস্তা দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর আগে তিনি ‘টেকাপ’ প্রকল্পের ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেকের ভাতা থেকে ১ হাজার টাকা রেখে দিয়েছিলেন। প্রশিক্ষনার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে কর্মকর্তা তাদের ৮০০টাকা করে ফেরৎ দেন। এছাড়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে কোনো কাজে কাউকে সহযোগিতা করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিস্তি খেলাপী ও ঋণ খেলাপীর টাকা আদায়ে বিলম্ব হলে সহকর্মীদের অশালীন ভাষায় কথা বলেন।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আকবর হোসেন হাওলাদার জানান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুলাদী কার্যালয়ে যোগদানের আগে তাকে চলতি দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজেই চলতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে ২ লাখ টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে আত্মসাতের চেষ্টা করেন। টাকা নেওয়ার প্রমাণ থাকায় ওই কর্মকর্তা ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছেন।
এব্যাপারে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এ.কে.এম সহিদুল ইসলাম জানান, ‘প্রশিক্ষনার্থীদের টাকা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়। সেখানে অনিয়ম কিংবা আত্মসাতের সুযোগ নেই। উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরধরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’ৃ