আগের দিন নেটে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন সবার পর। লম্বা সময় ব্যাটিং করেছিলেন। আজও সবার আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ মেলেনি। দলের ঐচ্ছিক অনুশীলনে হাজির হওয়া সাত জনের একজন হয়ে এনামুল হক বিজয় এসেছিলেন পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েসন স্টেডিয়ামে। কিন্তু নিয়মিত খেলোয়াড় তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের পর তার ব্যাটিংয়ের সুযোগ মেলে। সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে পড়ায় দেশ থেকে এনামুলকে উড়িয়ে আনা হয়েছে পুনেতে। বাড়তি ব্যাটসম্যান রাখার তাগিদেই তাকে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার খেলার সম্ভবনা কতোটুকু? প্রস্তুতি দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে, এনামুল সেরা একাদশের ভাবনাতে নেই। যদি থাকতেন দুদিন নেটে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন পরতো। বিশেষ করে নেটে ব্যাটিংয়ের সময় কোচদের নজরে থাকার যে বিষয়টি তা চোখে পড়তো। গত বৃহস্পতিবার এনামুলের ব্যাটিং অনুশীলন ছিল একেবারেই সাদামাটা। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বা ব্যাটিং কোচ নিক পোথাসের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে দেখা যায়নি। উল্টো তানজিদ তামিমকে নিয়েই বেশি ব্যয় করেন হাথুরুসিংহে। আজ নিয়মিত একাদশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আসেননি। হাথুরুসিংহে বিজয়কে সময় দিয়েছেন বেশ। নেটের বাইরে থেকে তাকে পরখ করার পর লম্বা সময় কথা বলেছেন। ব্যাটিং নিয়ে যে কথা হচ্ছিল দুজনের তা শারীরিক ভাষায় ফুটে উঠছিল। তার খেলার সম্ভাবনা কতোটুকু জানতে চাইলে হাথুরুসিংহে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি, ‘দলের ১৫ জনের ১ জন সে। তারও খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।’ দিল্লিতে জয় পাওয়া শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের নায়ক ছিলেন সাকিব। ব্যাটিংয়ে ৮২ রানের ইনিংস খেলার পথে হাতের আঙুলে চোট পান। এক্সরে করে নিশ্চিত হন চিড় ধরা পড়েছে। সেখানেই শেষ হয়ে যায় সাকিবের বিশ্বকাপ। আগের ম্যাচে সাকিবসহ পাঁচ বোলার নিয়ে খেলা বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কম্বিনেশন কেমন হবে? হাথুরুসিংহের কাছে জানতে চাইলে বলেছেন, ‘সাকিবকে ছাড়া একাদশ সাজানো সব কঠিন। শেষ ম্যাচে যা আমাদের করতে হবে। আমরা তাকে লম্বা সময়ের জন্য পেয়েছিলাম এবং তার মতো সামর্থ্যরে কাউকে পাওয়া সত্যিই কঠিন। এক নম্বর অলরাউন্ডার। একের ভেতর দুই। এজন্য কম্বিনেশন সাজানো কঠিন। বোলিংয়ে তার শূন্যস্থান একজন স্পিনার বা পেসার দিয়ে করাতে পারি। ব্যাটিংয়ে আমরা তাকে মিস করবো সঙ্গে তার নেতৃত্ব। সেজন্য বলছি তার বদলি বের করা কঠিন।’ নিজেদের ব্যাটিং শক্তি নিয়ে এবার বাংলাদেশ এতোটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে বাড়তি কোনো ব্যাটসম্যান যুক্ত করার প্রয়োজন মনে করেনি। তানজিদ টানা ব্যর্থতার পরও সুযোগ পেয়ে গেছেন। পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়েননি কেউ। টিম কম্বিনেশনের কারণে সরিয়ে রাখা হয়েছে। সাকিব না থাকায় প্রয়োজন হলো ব্যাটসম্যানের। তাই দেশ থেকে আনা হয়েছে এনামুলকে। তার ওপর যথেষ্ট আস্থা আছে হাথুরুসিংহের, ‘আমি নির্ভার। অধিনায়ক হারানোয় নির্ভার নই অবশ্যই। তার পরিবর্তে কাউকে পেয়ে নির্ভার। বিজয়ের মতো অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া স্বস্তির। এটা ভালো দিক।’ ইনজুরিতে পড়েই ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন এনামুল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পান। সৌম্য সরকার তার জায়গা নিয়ে নিজেকে থিতু করেন। এনামুল পরে সুযোগ পেলেও মেলে ধরতে পারেননি। এরপর নানা সময় তার আসা-যাওয়া, কিন্তু পায়ের নিচের জমিন শক্ত হয় না। ২০১৯ বিশ্বকাপে সুযোগ পাননি, দলে ছিলেন না এবারও। কিন্তু ভাগ্য তাকে আবার ফিরিয়েছে বিশ্বকাপ মঞ্চে। সেই ইনজুরি নামক দুর্ভাগ্য তার জীবনে সৌভাগ্য হয়ে এলো। সুযোগ পেলে সাদামাটা ক্যারিয়ারের পাতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।