বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নবাগত ছাত্রদের র্যাগিং করায় ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রতিবাদ করেছিলো ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুকুল আহমেদ। এ কারণে বঙ্গবন্ধু হলের একটি কক্ষে রাতভর আটকে নির্যাতন করে বাম হাত ভেঙ্গে দেওয়া মুকুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আহত ছাত্র মুকুল আহমেদ মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে সোমবার রাতে তিনি তার বাবার সাথে ঢাকার এসে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহত মুকুলের বাবা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সফিজ উদ্দীন বলেন, আমি গরিব মানুষ। ছেলের এই অবস্থায় যে উন্নত চিকিৎসা করাবো সেই সামর্থ্য আমার নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি (সফিজ উদ্দীন) তার ছেলের নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে উপাচার্যের নির্দেশে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রক্টর আরও বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে মুকুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার চিকিৎসায় যাবতীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আহত মুকুল আহমেদ বলেন, গত ১২ অক্টোবর আমাদের একাদশ ব্যাচের ছোট ভাইদের র্যাগিং করার জন্য ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীদ মঞ্জু ও সিহাব উদ্দিন বঙ্গবন্ধু হলের একটি কক্ষে ডাকেন। এনিয়ে আমাদের ব্যাচের ফেসবুক মেসেঞ্জার ডিসকাশন গ্রুপে আমি প্রতিবাদ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তানজীদ মঞ্জু ও সিহাব উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ৪০১৮ নম্বর কক্ষে আমাকে আটকে রাতভর নির্যাতন করে। তারা পিটিয়ে আমার বাম হাত ভেঙে দেয়।