দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ ১৭টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বিপাকে পরেছে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করে একজন সংসদ সদস্যকে কোন ক্ষমতাবলে শোকজ করা হয়েছে তা জানতে সাতদিনের সময় দিয়ে মঙ্গলবার সকালে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস স্বাক্ষরিত কারণ দর্শনোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বরিশাল-২ আসনের সাংসদ শাহে আলমকে শোকজ করা হয়েছে। তাই একজন সংসদ সদস্যকে কোন ক্ষমতাবলে শোকজ করা হয়েছে তা জেলা আওয়ামী লীগের মঙ্গলবারের এ কারণ দর্শনানোর নোটিশপ্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে ব্যাখাসহ লিখিতভাবে জানাতে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। এরআগে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি শোকজ নোটিশে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে চার পৃষ্ঠার নোটিশে ১৭টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ওই নোটিশের জবাব সাংসদকে ১৫ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। ১৭টি অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-দলীয় কার্যালয় নির্মাণের দুই লাখ টাকা নিজের জিম্মায় রাখা, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিজস্ব বলয় তৈরি করা, বানারীপাড়া পৌরসভা, চাখার ও সৈয়দকাঠি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজস্ব লোক দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করানো, দলীয় কর্মসূচি এড়িয়ে আলাদা কর্মসূচি করা, অনুসারী ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে অশোভন আচরণ করা, আত্মীয় স্বজনদের মাঝে ঠিকাদারী কাজ ভাগ করে দেওয়া, যুবলীগ নেতা আতিক বাপ্পীকে নিজের হাতুড়ি বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া, চাচাতো ভাইকে দিয়ে দলীয় কার্যালয়ের চাবি জোরকরে নিয়ে কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মডেল মসজিদ প্রকল্প শুরু হতে না দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জ্যোর্তিময় গুহ ঠাকুরতার বাড়ি দখল এবং উদয়কাঠি ইউনিয়নের তেঁতলা গ্রামের রতন ঘরামীর জমি জোরপূর্বক ক্রয়ের চেষ্টা, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের উন্নয়নের ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা ইত্যাদি। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের শোকজ নোটিশের ব্যাপারে সাংসদ শাহে আলম বলেন, উল্লিখিত অভিযোগের একটির সাথেও আমার কোনধরনের যোগসূত্র নেই। পাশাপাশি শোকজ নোটিশের কোন কপিও আমি হাতে পাইনি। মঙ্গলবার দুপুরে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কারণ দর্শনোর নোটিশের কপি এখনও হাতে পাইনি। সংসদ সদস্যকে শোকজ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি কোন বক্তব্য দিবো না। এ বিষয়ে দলের মুখপাত্র সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য দিবেন। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য শাহে আলম এমপি। তাই তাকে দলীয় নিয়মানুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব না পেলে নিয়মানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জেলা আওয়ামী লীগের কারণ দর্শনোর নোটিশের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখনও কপি হাতে পাইনি। পেলে যথাযথ ব্যাখাসহ লিখিতভাবে জবাব দেওয়া হবে। দুইজনকে শোকজ : একজনকে অব্যাহতি ॥ সোমবার (১৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশ হওয়া বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাওলাদ হোসেন সানা স্বাক্ষরিত পৃথক দুইটি নোটিশে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিয়াউল হক মিন্টু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডুকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম বেপারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।