ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় এক বাসে যাত্রী তোলার সময় আরেক বাসের ধাক্কায় চার পোশাক শ্রমিকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চেলেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ত্রিশাল থানার ওসি মাইন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই এলাকার খায়রুজ্জামান লিটন (২৮), বাড়েরারপাড় ভাটিপাড়া এলাকার শিমুল আহমেদ জয় (২০), ত্রিশাল উপজেলার দক্ষিণ তেতুলিয়া এলাকার জেসমিন আক্তার (৩০), সাখুয়া ইউনিয়নের গন্ডখোলা এলাকার বখতিয়ার হোসাইন সোহেল (৩৫), ঈশ্বরগঞ্জের মারোয়াখালি এলাকার আলতাব হোসেন (৬০), এবং অন্য এক নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদরের চুরখাই ও ত্রিশাল থেকে কয়েকজন পোশাক শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রী শেরপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসএস ট্রাভেলস নামে একটি বাসে ওঠেন। পথে চেলেরঘাট এলাকায় যেতে বাসটির চাকা ফুটো (পাংচার) হয়ে যায়। পরে বাসটি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামত করা হচ্ছিল। এজন্য যাত্রীরা নেমে অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এরইমধ্যে ইসলাম পরিবহন নামে একটি বাস থামিয়ে যাত্রীরা সেটিতে ওঠার সময় রাসেল গার্মেন্টসের একটি বাস এসে বাসটিতে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন ও ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। এতে আহত হন অন্তত ১২ জন। তাদের মধ্যে সাতজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। এদিকে পোশাক শ্রমিকবাহী ‘রাব্বি-সেতু’ (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-১০০৪) নামে বাসটি সড়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই চলছিল চার বছর ধরে। দুর্ঘটনার পর বাসটি ফিটনেসবিহীন বিষয়টি জানাজানি হলে এ ঘটনায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। সূত্র জানায়, গার্মেন্ট কর্মীদের বহনকারী বাসটি সড়কের চলাচলের অনুমতি হারিয়েছে ২০১৯ সালের ১ জুন। সেই সঙ্গে বাসটি ফিটনেস হারিয়েছে ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। তবুও ফিটনিসবিহীন এই বাসটি সড়কে নিয়মিত চলাচল করছিল। তবে বিগত ৪ বছর আগে এই বাসটি বিক্রি হলেও এখনও কাগজপত্রে বাসটির মালিক রয়ে গেছেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার মুসিন্দা গ্রামের মো. আবু হানিফ শিকদার। তিনি বলেন, বাসের কাগজপত্রের মেয়াদ ও অনুমতি না থাকায় চার বছর আগে ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে আমি বাসটি বিক্রি করে দিয়েছি। এ সময় তিনি ছয় ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবরে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) এ এস এম ওয়াজেদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে কাজ করছি। তবে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রোড পারমিট বা অন্যান্য কাগজপত্র ছিল কি না তা এখনও যাচাই করা হয়নি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিবোর্ড থেকে প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ত্রিশাল থানা পুলিশের ওসি মঈন উদ্দিন জানান, এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান আহত আরও পাঁচজন মমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।