আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) সংসদীয় আসনে শরীকদের ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এলাকায় কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিতের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের ৭ নেতা তৃণমূলে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। তারা দলের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রিয় ও জেলা নেতাদের কাছে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মীরা। তবে আসনটি ধরে রাখতে চায় বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাটামারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পরে একমাত্র ১৯৭৩ সালে বরিশাল-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাস্টার আবুল খায়ের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়নি। বিগত ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী মনোনয়ন পাননি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন গোলাম কিবরিয়া টিপু। ২০১৪ সালে মহাজোটের দুই প্রার্থীর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে মহাজোট থেকে শেখ টিপু সুলতান নৌকা প্রতীক পেলেও তাকে হারিয়ে লাঙ্গল নিয়ে এমপি হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া টিপু।
আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হাসান খান মিঠু, কেন্দ্রিয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দীন খসরু, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সমিতির নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সাফায়েত হোসেন সজিব, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ড. আমিনুল হক কবীর, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপন, সদস্য মো. আতিকুর রহমান।
উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি এস এম কামাল পাশা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য না থাকায় মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনে শরীকদের ছাড় দেওয়া হবে না। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিতে দলীয় হাইকমাণ্ডের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান বলেন, এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে মহাজোট তাকেই মনোনয়ন দেবে এবং তিনি বিপুল ভোটে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হবেন।