খুলনার পাইকগাছায় সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীরা কপিলমুনি-তালা উপজেলার কানাইদিয়া তাদের নিরাপদ রুট মনে করছেন। কপোতাক্ষ নদের উপর বৈধ-অবৈধ নৌ-পারাপারে মাদক চোরাচালানী হরহামেশায় চলছে। প্রধান সড়ক পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট থাকায় তারা মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে এ রুটকে মাদক ব্যবসায়ীরা বেশি পছন্দ করছেন। রুট হিসেবে এ পথকে নিরাপদ মনে করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন মাদক প্রতিরোধ সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কপিলমুনি-কানাইদিয়া কপোতাক্ষ নদ পারাপারে বাঁশের সাঁকো অসমাপ্ত ব্রিজ ও হরিঢালী ইউনিয়নের উলডাঙ্গা খেয়াঘাটকে বেছে নিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অপারেশন বিভাগের পরিচালক সৈয়দ তৈফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক চোরাচালানকারীরা সাধারণত জলপথকে তাদের নিরাপদ রুট মনে করেন। তবে যারা জলপথে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন তারা এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছেন। বড় ধরনের মাদকের চোরাচালান জলপথে আসছে বলে মনে করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বিভিন্ন রুট দিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রবেশ করা মাদেকের উল্লেখযোগ্য দ্রব্য হলো ইয়াবা। দেখা যায়, গোপণ তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪০দিনে উপজেলার কপিলমুনি থেকে ৩৮পিস ইয়াবাসহ চার মাদক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত সোমবার (২অক্টোবর) বিকালে কপিলমুনি বাজারের বাবু মীরের রেষ্টুরেন্ট সামনে থেকে ২৫পিস ইয়াবাসহ সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার কানাইদিয়া গ্রামের কোমর উদ্দিন গাজীর ছেলে রহমত গাজী (৩৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে কপিলমুনি বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদ পাই। এ সময় উপ-পুলিশ পরিদর্শক সুজিত ঘোষ অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে পালানোর সময় রহমত গাজী নামে এক মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে ২৫পিস ইয়াবা বের করে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় থানা পুলিশ কপিলমুনি খেয়াঘাট এলাকা থেকে ১৩পিস ইয়াবা সহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শ্যামাপ্রসাদ জানান, মাদক ক্রয়-বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে হরিঢালী ইউনিয়নের মাজেদ সরদারের ছেলে ফারুক সরদার (৪০), হাসান গাজীর ছেলে হাফিজুর রহমান(২০) মামুদ কাটি গ্রামের অরবিন্দু দাশের ছেলে প্রশান্ত দাশ(৩২)কে ১৩পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। স্থানীয় সচেতনমহল মনে করেন, পুলিশ প্রশাসনের নজরদারী বাড়ালে কমে আসবে মাদক চোরাচালানী।