রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রধান মন্ত্রীর অনুদানের টাকায় নিজের এলাকার বংশের নামে আশ্রয়ণ প্রকল্প করেছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীরা অভিযোগ তুলেছেন, ইউএনও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেখায়ে অবৈধভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আশ্রয়ন প্রকল্পের নামকরণ করেছেন। জানা গেছে,বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ যোগদান করেন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং। নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছের জন্ম স্থান নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়। প্রধান মন্ত্রীর অনুদানে টাকায় দেওয়া দুস্থ মানুষের জন্য,উপজেলায় মোট পাঁচঁশত ৯৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে,নির্বাহী কর্মকার্তা তার বংশের নাম অনুযায়ী আশ্রয়নের নাম রাখেন তালুকদার গ্রাম। তালুকদার গ্রামে ১০৯টি ঘর রয়েছে। ইউএনও বিভিন্ন সময়ে সমাবেশে নিজ মুখে বলেছেন,হাতিয়া দ্বীপের একটি বংশ ছিল। তার নাম ছিল তালুকদার। বর্তমানে সেটি বিলুপ্ত হয়েছে। সেই এখানকার নাম অনুযায়ী তালুকদার গ্রাম রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ, ইউএনও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেখায়ে অবৈধভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে। আশ্রয়ন প্রকল্পটি নাম রেখেছেন তালুকদার গ্রাম। তখন আশ্রয়নে নাম রাখার সময়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। প্রতিবাদ করলে এলাকার অনেক ছিন্নমূল মানুষ ঘর পেত না। বর্তমানে আস্তে আস্তে এলাকার মানুষগুলো মুখ খুলতে শুরু করেছে। এলাকার লোকরা বলছে, এলাকার বংশের টানে আশ্রয়নে উন্নয়নে মেতেছেন ইউএনও। তাই এখানে দুইতলা বিশিষ্ট একটি মাদ্রসা, তিনতলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ, শিশু পার্ক, খেলার মাঠ ও একটি ঈদগা নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি নামকরণ করা হয়েছে হযরত আনাস (রা) জামে মসজিদ নামে। শমসের আলি নামের বারইপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, কয়েকটি পাড়া নিয়ে একটি গ্রাম হয়। আর তিনি নিজের নিজের স্বার্থের জন্য,বেশকিছু বাড়ি নিয়ে একটি গ্রামের নাম রাখলেন তালুকদার গ্রাম। ইদ্রিস আলি নামের আরেক বারইপাড়া গ্রামের ব্যক্তি বলেন, পুঠিয়ায় এত বংশ থাকতে তার নিজ এলাকার নামটি রেখে সে অন্য করেছে। তিনি নাম দিতে পাড়তেন বারইপাড়া আশ্রয়ণ গ্রাম। তারপর,সে যদি নিজের টাকা খরচ করে গ্রামটির নাম তালুকদার গ্রাম রাখলে সবচেয়ে ভালো হতো। কিন্তু রাষ্ট্রের বিভিন্ন অনুদানের টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করে। বুদ্ধিখাটায়ে তার ডাক নামটি স্থালে হযরত আনাস(রা) নাম ব্যবহার করেছেন। পুঠিয়ায় বর্তমান সরকারের সবচেয়ে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তালুকদার গ্রামে। উপজেলার অন্যস্থানে আরো আশ্রয়ন পাড়া হয়েছে। সেগুলোতে হাজারও সমস্যা রয়েছে। উপজেলা সদরের আঃ কুদ্দুস নামের দোকানদার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পাড়ছি। উপজেলায় ঘর নির্মাণের শুরুতেই অনেক আশ্রয়নে অতিনম্নমানের কাঠ দিয়ে টিনের ছাউনি দেওয়ায়। একটু বাতাস উঠলে,যে কোনো সময়ে টিনের চালা উড়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস তাড়িঘড়ি করে কাঁচা গাছের গুড়ি ফাড়ায় করে ঘরের ভেতর তীর দিয়েছে। আশ্্রয়নের অনেক ঘরে কাঠে ঘুনপোকা ধরেছে। মানুষ রাতে ঘুমাতে পারচ্ছি না। বাধ্য হয়ে টিনের নীচে কাপড় লাগায়ে বসবাস করছে। ইউএনও অফিসের নাম প্রকাশে অচ্ছিুক এক কর্মকর্তা বলেন, তালুকদার গ্রামটির নাম রাখার পর হতে ইউএনও মহদয় সরকারি যত অনুদান উপজেলায় এসেছে। তার বসগুলি তালুকদার গ্রামের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। কোটি টাকার অধিক দিয়ে অন্য অবকাঠামোগুলো করেছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরে এডিবির টাকা তালুকদার গ্রামে শিশু পার্কের জন্য ১টি প্রকল্প বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু পুঠিয়া পাঁচঁআনি রাজার আম বাগানে শেখ রাসেল শিশু পার্কটি অর্ধের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। নাম প্রকাশে অচ্ছিুক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অফিসের অর্থায়নে শুধুমাত্র তালুকদার গ্রামের জন্য,৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ ফিট একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। যা সারা দিনে ১০ হতে ২০ জন মানুষ ব্রীজটি দিয়ে যাতায়ত করেন না। যারা যাতায়ত করেন তারা আবার নাটোর সদর এলাকার মানুষ। কিন্তু পুঠিয়ার এমনও স্থান রয়েছে। যেখানে হাজারো প্রয়োজনে শত চেষ্টা করেও তারা একটি ব্রীজ নির্মাণ করার সুযোগ পাঁচ্ছেন না। এখানে শুধু রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করা হয়েছে। সিংহভাগ মানুষের উপকারে আসছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ যুগান্তরকে বলেন, তালুকদার আমার বংশের নাম না। হাতিয়া দ্বীপের একটি বংশের নাম। বর্তমানে সেটি বিলুপ্ত হয়েছে। সেই এখানকার নাম অনুযায়ী তালুকদার গ্রাম রাখা হয়েছে। এখানে তালুকদার গ্রামসহ চার উপজেলার ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পাড়বে। এগুলো নির্মাণ করতে আমাকে অনেক ঘাম ঝড়াতে হয়েছে।