রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীর খেয়াঘাট নিয়ে দ্বন্দ্বে ইজাদারের মধ্যে উত্তেজনা ও বাক-বিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আতারপাড়া খেয়াঘাট এলাকার বারশতদিয়াড় পদ্মা নদীর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরে (বাংলা ১৪৩০) গোকুলপুর, চৌমাদিয়া, কিশোরপুর, দিয়াড়কাদিরপুর ও আতারপাড়া ফেরিঘাট ইজারা দেওয়া হয়। শর্ত সাপেক্ষে ৮৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে খেয়াঘাট ইজারা নেয় পাকুড়িয়া গ্রামের সুরুজ আলী। বাংলা সালের বৈশাখ মাস থেকে যথারীতি তিনি ঘাট পরিচালনা করে আসছেন।
হঠাৎ করে মশিদপুর গ্রামের নাহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সুরুজ আলীর ইজারা নেওয়া এলাকায় নতুন একটি ঘাট চালু করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা ও বাক-বিতন্ডা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রোবার দুপুরে পরিস্থিতি শান্ত করে নাহারুল ইসলামের একটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুরুজ আলী জানান, নাহারুল ইসলাম কুষ্টিয়ার উদয়নগর এলাকার ফেরিঘাট ইজারা নিয়েছেন। পরে বাঘা উপজেলার আতারপাড়া ফেরিঘাট এলাকার বারশতদিয়াড় পদ্মা নদীর ঘাটে নতুন একটি ফেরিঘাট চালু করেন। তাকে নিষেধ করেও কোন সুরাহ না হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষে থেকে তার নৌকা জব্দ করেছে।
এ বিষয়ে নাহারুল ইসলাম জানান, জোর করে কোন কিছু করা হয়নি। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে কুষ্টিয়ার উদয়নগর মৌজার খাজিরা ও উদয়নগর এবং বাঘার দিয়াড়কাদিরপুর ও আতারপাড়ার আংশিক এলাকার খেয়াঘাট ইজারা নেওয়া হয়েছে। আতারপাড়া এলাকার বাইরে যাত্রীদের সুবিধার জন্য বারশতদিয়াড় এলাকায় জায়গাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমিও ইজার নিয়েছি তিনিও ইজারা নিয়েছেন। জনগনের সুবধার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) জুয়েল আহমেদ জানান, অবৈধভাবে খেয়াঘাট পরিচালনার দায়ে নাহারুল ইসলামের একটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা নৌকা বিজিবির হেফাজতে রাখা আছে। উভয়পক্ষকে ইজারা নেওয়া এলাকায় বাইরে ঘাট পরিচালনা করতে নিষেধ করা হয়েছে।