রাজশাহীর তানোরে সরকারী নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজস্ব নিয়মে ভিজিএফ চাল বিতরণ করেছেন তানোর পৌর সভা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দরিদ্রদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
রোববার ও সোমবার এই দুই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌর সভা চত্বরে ঈদুর আযহা উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য ১০ কেজি করে বরাদ্ধ প্রধান মন্ত্রীর ঈদ উপহারের ভিজিএফ চাল অজন করে প্রতিজনকে না দিয়ে ১ বস্তা চাল ১ জনকে ধরিয়ে দিয়ে ৫ জনকে ভাগ করে নিতে বলা হয়েছে।
এভাবেই তানোর পৌর সভায় দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ভিজিএফ চাল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দরিদ্র নারী পুরুষের অনেকেই অপেক্ষা করছেন চালের জন্য। কিন্তু তাদের নাম নেই, তারপরও তারা অপেক্ষা করছেন চাল পাওয়ার আশায়।
এর মধ্যে কয়েকজন ভিক্ষুকও সেখানে অপেক্ষা করছেন চাল নেয়ার জন্য কিন্তু তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেছেন।
তবে, সেখানে কোন ট্যাগ অফিসারকে দেখা যায় নি। এ বিষয়ে তানোর পৌর সভায় ভিজিএফ চাল বিতরনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার তানোর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার সুমন মিয়া বলেন, আমি ছিলাম, কিন্তু কি করবো বলেন মেয়র মহাদয় যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই করেছেন বলেও জানান তিনি।
তানোর পৌর সভার মেয়র ইমরুল হক বলেন, এ বিষয়ে কি কোন উপকার ভোগীর অভিযোগ রয়েছে? এমন প্রশ্ন করেন তিনি। মেয়রকে প্রশ্ন করা হয়, ১ বস্তা চাল ১ জনকে দিয়ে ৫ জনকে ভাগ করে নিতে বলেছেন এমনটা কি করা যায়? তিনি বলেন যা খুশি লেখ জানিয়ে তিনি অশ্লীল ভাষায় ব্যবহার করেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, পবিত্র (ঈদ উল আযহা) ঈদের দিন দরিদ্রদের মুখে হাসি ফুটিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে দরিদ্র শ্রেনীর মানুষের মুখে দু'মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য (পরিবার প্রতি) প্রতিজনকে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দিয়েছেন সরকারের প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
তানোর পৌর সভার ১হাজার ৫শ' ৪০ জনের বরাদ্দকৃত চাল বিতরনের তালিকা তৈরিতে আত্মীয় করন ও নিজস্ব ভোটারদের গুরুত্ব দেয়া হয়ে বলেও জানিয়েছেন প্রকৃত দরিদ্ররা।
ভিজিএফ চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া একাধিক দরিদ্র নারী পুরুস বলেন, পাকা বাড়ি আছে এমন লোকেরও নাম দেয়া হয়েছে অথচ কুড়ে ঘরে থাকা এমন অনেকেই পাননি ভিজিএফ চাল।
ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর সভা হচ্ছে সরকারের সেবা মুলক প্রতিষ্ঠানের ১ম স্তোর। জনগনের মাঝে সরকারের সেবা ও দান অনুদান দিয়ে ভাবমুর্তি প্রকাশের অন্যতম একটি সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র (ঈদ উল আযহা) দরিদ্রদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দিয়েছেন।
সরকার দরিদ্রদের কথা চিন্তা করে অনুদান বা দান ভিজিএফ চাল বিতরনের নিয়ম কানুন ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেন সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে প্রকৃত দরিদ্ররা এই ভিজিএফ চাল পায়। এসব বিতরেন সরকারী নিয়ম মেনে চাল বিতরনের নিয়ম মানেন নি রাজশাহীর তানোর পৌর সভা কর্তৃপক্ষ।
তানোর পৌর সভা কর্তৃপক্ষ তালিকা তৈরিতে আত্মীয় করন ও নিজস্ব বোটারদের গুরুত্ব দিয়ে তালিকা তৈরি করেছেন। একই সাথে এসব চাল বিতরনে সরকারে নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যার যার নামে বরাদ্ধ ১০ কেজি চাল তাদেরকে না দিয়ে ১ বস্তা চাল ৫ নিতে বলে ১ জনের হাতে ধরিয়ে দেন চালের বস্তা।
তানোর পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এধরনের কর্মকর্তা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের দাপট ও নিজস্ব নীতির কারণে সরকারী দান অনুদান বিরতণ ও সেবা প্রদানে সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে। এসব বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধ আইন গত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের উধর্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।