রাজশাহীর তানোরে অসহায় এক হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি দখলে নিতে নারী পুরুষের সমন্নয়ে গঠিত লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে দফায় দফায় হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছেন ভূমিদস্য নামে পরিচিত মাহফুজ মোল্লা। মাহফুজ মোল্লা তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় গ্রামের জালাল উদ্দীনের পুত্র।
সে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে এলাকার বেশ কয়েকটি বিরোধকৃত জমি ও খাস জমি জবর দখলে নিয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ব্যাবস্থা নেয়া হয়না। ফলে, লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বিরোধকৃত জমি এবং খাস জমিতে কাগজপত্র ছাড়া বসবাসরত অসহায় পরিবারের জমি জবর দখলে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মাহফুজ মোল্লা।
গত বুধবার সকালে মাহফুজ মোল্লা তার নারী পুরুষ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তানোর পৌর এলাকার ৪ ওয়ার্ড হিন্দুপাড়া মহল্লার মৃত স্বপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বপনের বিধবা স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় সংবাদ কর্মিদের উপস্থিতি টের পেয়ে দলবল নিয়ে সটকে পড়েন।
এর আগে গত শনিবার ও সোমবার সকালে দুই দফায় মাহফুজ মোল্লা তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তানোর পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত স্বপনের বাড়িতে (তানোর পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী) বিধবা স্ত্রী সন্তানের উপরে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুর করে সীমানা খুটি পুতে দেয়।
এঘটনায় গত সোমবার মৃত স্বপন দাসের বিধবা স্ত্রী শ্রীমতি মিরা দাস বাদি হয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তানোর থানায় পৃথক পৃথক ভাবে ২ টি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়া হয়নি।
অভিযোগ ও মহল্লাবাসী সুত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলা ক্যাম্পাস সংলগ্ন হিন্দু পাড়ায় মৃত স্বপনের বাড়ি দখলে নিতে ধানতৈড় গ্রামের জালাল উদ্দিনের পুত্র মাহফুজ মোল্লা লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে বৈদ্যতিক মিটার ভাংচুর ও বাড়ির ভিতরে সীমানা খুটি পুতে দিয়ে হুমকি ধামকি ১ সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন।
প্রকাশ্যে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর দফায় দফায় হামলার ঘটনায় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। একই সাথে প্রশাসনের রহস্য জনক ভূমিকায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে ভূমিদস্যু মাহফুজ মোল্লার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে ফুসে উঠছে হিন্দু সম্প্রদায়।
মহল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, গত ৬ মাস আগে একই মহল্লার দলিল লেখক উত্তম কুমারের দখলকৃত বাড়ির পার্শ্বের জায়গা দখলে নিতে মাহফুজ তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন। আবারো মাহফুজ মোল্লা তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে সীমানা খুটি পুতে দিয়েছেন।
সংখ্যালঘু পরিবারটি অসহায় গরীব হওয়ায় ভূমিদস্যু মাহফুজের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। ভূমিদস্যু মাহফুজ মোল্লা ওই পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে বলেছে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে না গেলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। সংখ্যালঘু পরিবারের থাকার একমাত্র বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন নির্মম ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
হিন্দুপাড়া মহল্লার মৃত স্বপনের পুত্র বলেন দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গায় শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছেন তারা। উপজেলা অডিটরিয়াম স্থাপনের ওই সময় উপজেলা প্রশাসন থেকে এই জায়গা বিনিময় করে আমাদের দেয়া হয়েছে। আর আমাদের রেকর্ডিও জায়গায় সেখানে অডিটরিয়াম করা হয়। সেই থেকেই আমরা এখানে বসবাস করে আসছি।
কিন্তু এখন ধানতৈর গ্রামের জালাল মোল্লার বখাটে ছেলে ভূমিদস্যু মাহফুজ মোল্লা এই জায়গা ক্রয় করেছেন দাবি করে কোন কথা ছাড়াই নারী পুরুষ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও বৈদ্যুতিক দুটি মিটার ভাংচুর করে। এ সময় আমরা বাঁধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র ও লাঠিসোটা হাতে মহিলাদের নিয়ে মারপিট করতে তেড়ে আসেন মাহফুজ।
আমরা গরীব মানুষ তার টাকার কাছে আমরা অসহায়। আমাদের বিচার করবে কে বলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংখ্যালঘু পরিবারটি। তারা এ বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও ভারতীয় হাইকমিশনারের সু দৃষ্টি ও সরেজমিনে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে মাহফুজ মোল্লার ফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, এই জায়গা আমি ক্রয় করেছি, এখানে কোন আপোশ নাই, সংখ্যালঘু হোক আর আদিবাসী হোক প্রয়োজনে বাড়িঘর উচ্ছেদ করে জায়গা নিবো। তিনি বলেন কেউ বাঁধা দিতে আসলে তাদেরও কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলে দম্ভোক্তি দেখান ভূমিদস্যু মাহফুজ মোল্লা।
সম্প্রতি কিছু দিন আগে এই ভূমিদস্যু মাহফুজ মোল্লা পাশের আরেক সংখ্যালঘুর বাড়িঘর ভাংচুর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মহিলাদের ঝাঁটা পেটায় সেখানে থেকে পালিয়ে রক্ষা পান ভূমিদস্যু মাহফুজ মোল্লা।
এবিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, জায়গা জমির বিষয়ে এসিল্যান্ড দেখবেন এখানে (আমাদের) পুলিশের কিছু করার নাই জানিয়ে তিনি তাদেরকে এসিল্যান্ডের কাছে পাঠানোর কথা বলেন।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযোগ হলে ক্ষতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে তিনি এধরনের ঘটনায় আদালতে গিয়ে মামলা করাটাই উত্তম বলেও জানান তিনি।