রাজশাহীর বৃহত্তম আমের হাট পুঠিয়ার বানেশ্বর। এখানে দেশের সবকটি কুরিয়ার সার্ভিসের শাখা রয়েছে। কিন্তু কুরিয়ারে আম বুকিং করতে এলেই জোর করে হাট ইজারাদারদের লোকেরা টাকা আদায় অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রান্তে আমগুলো চলে যাচ্ছে। আম বুকিং করতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ,ইজারদারের লোকজন খাজনার নামে মাত্রাতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। উপজেলা প্রশাসন হাট ইজারা দিয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে রয়েছেন বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ তুলেছেন। হাটের একটি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে শুধুমাত্র আম ডাক হয়েছে ৮০ লাখ ৬১ হাজার টাকা দিয়ে। আর অতিরিক্ত টাকা আদায় করার জন্য হাট ইজারাদাররা মরিয়া হয়ে উঠেছে। আম হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা নিকট হতে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। কোনো ব্যক্তি নিজ বাগানের আম তার আত্বীয়-স্বজনের নিকট পাঠাতে বানেশ্বর বাজারে কুরিয়ার করতে এলেই কাটুন প্রতি ৫০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে ইজারদারের লোকজন তাদের বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল করছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ভুক্তভোগিরা জানালে তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। আবু সায়েন নামের এক ব্যক্তি কুরিয়ারে আম বুকিং গেলে। ইজারাদারদের লোক সজল ২০ কেজি আমের কাটুন হতে ৫০ টাকা জোরপূর্বক আদায় করে নেয়। সায়েমের মতো প্রতিদিন শত শত লোকজন ইজারাদাদের শিকার হচ্ছেন। কুরিয়ারে আম বুকিংর টাকা আদায় জন্য ইজারাদারদের লোকজন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের দুই কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তারপর, বানেশ্বর বাজারের যে কয়টি কুরিয়ার সার্ভিস রয়েছে,তাদের মিটিং করে হাট ইজারাদারা বলে দিয়েছেন। ক্যারেটে আম পাঠাতে হলে, ক্যারেট প্রতি ২০ টাকা করে খাজনা দিতে হবে। আক্কাস আলি নামের ভ্যানচালক বলেন,বেশিভাগ সময়ে আমের মালিক সঙ্গে থাকে না। তখন ইজারাদাদের লোজজন দীর্ঘক্ষন আটক করে রাখেন। অনলাইন আম বিক্রতা সিয়াম হোসেন বলেন,কুরিয়ার সার্ভিসের সবকটি শাখা বানেশ্বর বাজারে রয়েছে। সেখানে আমের কাঠুন নিয়ে বুকিং দিতে যেতে হয়। ছয় কাটুন আম পাঠাতে ৩শত টাকা খাজনা দিতে হয়েছে। আর রসিদ দিয়েছে মাত্র ৫০ টাকার। প্রতিনিয়ত আমাদের নিকট হতে তারা জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। এই অন্যায় বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে বললেও তারা তাৎক্ষনিক কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। আমারা হাট ইজারাদারদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছি। এ বিষয়ে বানেশ্বর হাট ইজারদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, যারা খাওয়ার জন্য কুরিয়ারে আম বুকিংর কথা আমার লোকদের বুঝায়ে বললে তারা টাকা নেবে না। আর যারা ব্যবসা করার জন্য আসবে তাদের খাজনা দিতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাস্মদ আনাছ বলেন, যদি মহাসড়কে খাজনা আদায় করে থাকলে। এটা চাঁদাবাজি। আমরা হাটের ভেতরে নির্দিষ্ট স্থানে খাজনা আদায় করার কথা বলেছি।