জমে উঠেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। যে প্রচারণায় চলছে সমালোচনাও। ফলে এখন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। আর এবার প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে অনলাইন মাধ্যম। ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। রাসিক নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ফেসবুক ও ইউটিউব ছাড়াও ব্যবহার করছেন অনলাইন প্রচারণার বিভিন্ন মাধ্যম। কোন এলাকায় কখন গণসংযোগ করছেন সেটাও প্রার্থী ও সমর্থকরা পোস্ট দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় তৈরি করা বিভিন্ন গান দিয়েও চলছে প্রচারণা। গানকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থীদের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা করানো হচ্ছে। এবার মূল ভোটারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার তরুণ ভোটার। এসব তরুণ ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন রাসিকের সাবেক মেয়র নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি ও তার কর্মী সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিগত সময়ের উন্নয়ন চিত্র ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। এ ছাড়া উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে গান বানিয়ে ইউটিউব ছাড়াও অনলাইনের অন্যান্য প্ল্যটফর্মে আপলোড করে প্রচার করছেন। এতে বিগত সময়ের উন্নয়ন, আগামীতে নির্বাচিত হলে কী কী করবেন, সেগুলো নিয়ে ফটোকার্ড, ডিজিটাল পোস্টার, ভিডিওচিত্র ও গানের মাধ্যমে অনলাইনে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে প্রার্থী নিয়ে কাদা ছড়াছড়ি করার দায়ে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনাও রয়েছে। বিশেষকরে নৌকার মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় রাজশাহী নগরীর ২২নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শংকর ঘোষকে গত বৃহস্পতিবার (৮ জুন) রাতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নিবার্চনী প্রচার কমিটির আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক বলেন, দেশ এখন ডিজিটাল হয়েছে। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। গণসংযোগ, পোস্টার-ফেস্টুন যেমন প্রচারণা একটি পার্ট, ঠিকই তেমনই সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণাও হচ্ছে আরেকটি পার্ট। বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে প্রচারণা অংশ নেয়া হচ্ছে। শিক্ষিত মানুষ ও তরুণদের আকৃষ্ট করতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাসিকের কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, গণসংযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলো হয়তো আর সেভাবে কেউ গণসংযোগ করবে না বলে আমার ধারণা। দেশও এগিয়ে যাচ্ছে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি। অনলাইনেও প্রচার-প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে।
আর নতুন ভোটার সানজিদা হক বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকদের ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। গানে গানে প্রচারণাসহ প্রার্থীদের এমন প্রচারণা দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। অনলাইনে সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চোখে পড়ছে নৌকার মেয়র প্রার্থীর। তিনি বিগত সময়ের যেসব উন্নয়ন কাজ করেছেন, সেগুলো সহ তাঁর মানবিক বিভিন্ন কাজের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। এতে করে তাঁর পক্ষে জনমত তৈরি হবে বলে আমি বিশ^াস করি।
আরেক নতুন ভোটার সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। ঘরে বসেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে। ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করলেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে। মাঠের মতো অনলাইনেও সবচেয়ে বেশি প্রচার চোখে পড়ছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের।
উল্লেখ্য, আগামী ২১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন (রাসিক)। এ নির্বাচনে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৮৫ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৭২। এর মধ্যে এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন ৩০ হাজার ১৫৭ তরুণ-তরুণী।