ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সংকের্তে শঙ্কায় দিন কাটে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকা খুলনার পাইকগাছায় দেলুটি, গড়ইখালী ও সোলাদানা ইউনিয়নের মানুষের। তারা প্রতি মূহুর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াপদার বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে থাকে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁধ মেরামতও করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। কিন্তু সেগুলি টেঁকসই নয়। দেলুটি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারেরও অভাব রয়েছে। দেলুটি ইউনিয়নে ৪টি দ্বীপে একটি মাত্র সাইক্লোন শেল্টার এবং গড়ইখালী ইউনিয়নের সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ শিবসা নদীর ধারে কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নটি ৪টি দ্বীপ বেষ্টিত। এখানকার ৪টি পোল্ডারই অধিক ঝুঁকিপুর্ণ। ২২নং পোল্ডারের কালিনগর, তেলিখালী ও দারুণ মল্লিক এলাকার বেড়িবাঁধ নদীভাঙনে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ সেটি মেরামতের কাজ করছে। ২১নং পোল্ডারের জিরবুনিয়া চৌমোহনী খেয়াঘাটের ওয়াপদার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া ২০ ও ২০/১ পোল্ডারের চকরিবকরি এলাকার বাঁধ দুটিও ক্ষতিগ্রস্ত। জলমহাল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বাঁধগুলো মেরামতের কাজ করা হয়েছে। ৪টি দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। অথচ ইউনিয়নে মাত্র ১টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় কর্মসৃজনের লোক দিয়ে পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁধগুলো মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তবে বাঁধ মেরামত করা হলেও সেগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হলে এসব বাঁধ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে যাবে। এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন। অপরদিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের মধ্যে সুন্দরবন সংলগ্ন গড়ইখালী ইউনিয়নের ১০/১২ নং পোল্ডারের খুদখালী এলাকার ওয়াপদার বেড়িবাঁধটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোপূর্বে ফনি, বুলবুল ও আম্ফানসহ প্রায় প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুদখালী এলাকার বাঁধ ভেঙে যায়। বেড়িবাঁধ এলাকার মানুষ একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতে আতঙ্কে দিনযাপন করে। গড়ইখালী মফিজুল সানার বাড়ি হতে মিজানুর গাজীর বাড়ি পর্যন্ত কয়েক’শ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। দুর্যোগ আঘাত হানলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি ভেঙে উপজেলার গড়ইখালী ও চাঁদখালী এবং কয়রার আমাদী ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জানান। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল শেখ জানান, আমরা প্রতিটা মূহুর্ত উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। এদিকে খুদখালী, বাইনতলা ও আলমতলার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আরাফাত হোসেন জানান, আমরা প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি, মূল কাজ শুরু করতে একটু দেরি হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু হাওলাদার জানান, ইতোমধ্যে আমরা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ চিহ্নিত করে সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম কেরু জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার লোকের বসবাস। অথচ ইউনিয়নে মাত্র ৩টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এ ছাড়া সোলাদানা ইউনিয়নের পাটকেলপোতা এলাকার শিবসা মোহনার ওয়াপদার বেড়িবাঁধটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পঞ্চানন সানা জানান, বাঁধটি দ্রুত মোরামত করা না হলে যে কোনো সময় সেটি ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সব ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছি।