রাজশাহীর পুঠিয়ায় অর্ধশতাধিক স্থানে তিন ফসলি জমিতে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে দিনে-রাতে পুকুর খননের কাজ চলছে। এদিকে উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো মাটি বহন করতে গিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা রাস্তাগুলো ধবংস হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জমির আকার পরিবর্তন করা যাবে না, সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে কয়েক হাজার বিঘা জমি ইতোমধ্যে পুকুর খনন করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ধনি কিংবা ভিটা জমির আকার/শ্রেনি এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। প্রতিদিন থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্য পুকুর খনন হচ্ছে। কোনো ভাবেই থামছে না পুকুর খনন কার্যক্রম। তিন ফসলি জমিতে দিন-রাত এস্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন হতে দেখা যাচ্ছে। পুরাতন পুকুর সংস্কারের নামে পুকুর মালিকের নিকট হতে প্রশাসনের টাকা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুকুর খননের মাটি ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু মাটি বিক্রি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। এই টাকা শ্রেনি মোতাবেক পুকুর খনের সঙ্গে জড়িতরা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। পুঠিয়া-দুর্গাপুর উপজেলার একজন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এস্কেভেটরের ব্যাটারি খুলে আনছে। মোটা অংকের টাকা দিলে ব্যাটারি দিয়ে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা পুকুর খননের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছে। এদিকে, স্থানীয় ক্ষমতাসিন দলের নেতাদের বিশাল বিশাল পুকুর করা ইতোমধ্যে শেষ করেছেন। বর্তমানে বেলপুকুর ইউনিয়নের কয়েক শত বিঘা পুকুর খনন করছে। উপজেলা যুবলীগের এক নেতা। পুকুর খননের মাটি বহন করতে গিয়ে উপজেলার কোটি কোটি টাকা মূল্যের বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তাগুলো নষ্টো হওয়ার পথে এসে দাড়িয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পুকুর খনন বন্ধের জন্য অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, আমি রাাস্তা নষ্ট করার দায়ে কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আগামীতে আরো কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।