রাজশাহীর মোহনপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করে নাটকীয় ভাবে মানববন্ধন করা হয়েছে। সোমবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ৯ টায় সময় মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও-র) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মো. নুরুল ইসলাম একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক হলেও তিনি এলাকায় প্রাইভেট শিক্ষক হিসেবে আলোচিত ও বেশ পরিচিত। তার স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের সাথে খরাপ আচারণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টার সময় স্কুল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মানববন্ধন করতে চাইলে মোহনপুর থানা পুলিশ গিয়ে বাঁধা দিলে স্কুলের মেইন গেটে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন প্লেকার্ড, ব্যানার নিয়ে শিক্ষকের বদলি বাতিলের দাবিতে নাটকীয় ভাবে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ৯ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, এই মানববন্ধন করার জন্য আমাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৫০ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিষয়ে জড়িত শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম এক ভাল শিক্ষক এটা সত্য। কিন্তু সে স্কুলের ক্লাসের চেয়ে প্রাইভেট পড়ানোর সময় বেশি প্রধান্য দেন। কোন শিক্ষার্থী তার প্রাইভেট পড়তে না চাইলে ওই শিক্ষার্থীর সাথে একের পর এক খরাপ আচারণ করেতে থাকে। একসময় বাধ্য হতে হয় তার কাছে প্রাইভেট পড়তে। ইতি পূর্বের এক শিক্ষার্থীসহ তার অভিভাবককে মারপিটের অভিযোগে থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হওয়ার পর সেটি নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। গত ১৬ এপ্রিল তাঁকে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। এরপর থেকে তিনি কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। ওই সময় মানববন্ধন করতে পারেননি। দীর্ঘ এক মাস পর কৌশলে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নাটকীয় ভাবে মানববন্ধন করতে চাইলে মোহনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা বন্ধ করে দেন। মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. ফাতেমতুজ জোহরা বলেন, এখন পর্যন্ত আমি স্মারকলিপি হাতে পায়নি। আমি তো বদলী টেকাতে পারিনা। মোহনপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা শাহীন মানববন্ধনের বিষয়টি শিকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিন না। মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. সেলিম বাদশাহ বলেন, মানববন্ধনের কথা শুনে ঘটনা গিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় উঠতে নিষেধ করলে তারা স্কুলের ভিতরে মানববন্ধন করেছেন।