রাজশাহীর বাঘায় ইউনিয়ন পরিষদের শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে এক গৃহবধুর ইজ্জতের মূল্যে হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৪ মে) বিকালে উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ তুফান, ইউপি সদস্য সাকিম উদ্দীন, অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, গ্রাম প্রধান আশরাফ আলীসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত শালিসি বৈঠকে শাহিন আলম নামের এক যুবকের এই জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, উপজেলার এক গৃহবধু’র (২৭) স্বামী উত্তরে ধান কাটতে যায়। এই সুযোগে শাহিন আলম (২৫) নামের এক যুবকের সাথে গৃহবধুর প্রেমের সম্পর্ক হয়। প্রেমের সম্পর্কের কারণে শনিবার রাতে উভয়ের সম্মতিতে গৃহবধুর ঘরে যায় যুবক শাহনি আলম। এ সময় গৃহবধু’র শ্বাশুড়ি তাদের আপত্তিকর অবস্থা দেখে বাহির থেকে ঘরের দরজা আটকিয়ে দিয়ে স্থানীয়দের ডেকে আনা হয়। স্থানীয়রা তাদের ঘরে আটকিয়ে রেখে গ্রাম পুলিশের দফাদার আবদুল মমিন পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরের দিন রোববার সকালে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে থানায় গৃহবধু অভিযোগ না করায় রোববার বিকালে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমঝোতা করে নেওয়ার জন্য শালিস বৈঠক হয়। এ বৈঠকে শাহিন আলমের ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তবে দুই বছর আগে ওই গৃহবধুর সাথে অনৈতিক ঘটনার অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন শাহিন আলম। শালিসে জরিমানার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে শাহিন আলম বলেন, জরিমানার ১৫ হাজার টাকা বর্তমান চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। আগের ৩০ হাজার টাকা সাবেক চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টিকে ষড়যস্ত্র বলে দাবি করেন শাহিন আলম।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সাকিম উদ্দীন বলেন, গৃহবধুর স্বামীর সাথে আলাপ করে বিষয়টি সমাঝোতা করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময়ে ওই গৃবধুর সাথে অনৈতিক ঘটনার দায়ে শাহিন আলমের ৩০ হাজার টাকা জরিমনা করা হয়েছিল। বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ তুফান বলেন, ওসির দেওয়া দায়িত্বে এক শালিসি বৈঠক করে সমাঝোতা করা হয়েছে। বাঘা থানার ওসি খায়রুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে গৃহবধু বা তার পক্ষে কোন অভিযোগ না করায় স্থানীয়ভাবে সমাঝোতার জন্য চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান বিষয়টি স্থধানীয়ভাবে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে সমাঝোতা করে দিয়েছেন। তবে জরিমানার বিষয়ে জানা নেই।