খুলনার পাইকগাছায় আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতা মুনছুর আলী গাজীর দৌরত্বে দলীয় তৃণমূল ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সাবেক এ বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের তান্ডব ও রোষানল থেকে রক্ষা পাঁচ্ছে না দলীয় নেতাকর্মী থেকে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরাও। গত এক যুগে গড়ে তুলেছে নিজস্ব রাজত্ব। তার বিরুদ্ধে তৃর্ণমূল নেতাকর্মীরা মুখ খুলতে সাহস পাঁচ্ছে না। তিনি ২০১১ সালে বিএনপি থেকে মনোনিত হয়ে উপজেলার চাঁদখালী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারী চাঁদখালী ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডে বিএনপি ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মনিরুজ্জামান গাজী ও সাধারন সম্পাদক বিধান চন্দ্র রায় স্বাক্ষরিত কমিটির ৬নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি মুনছুর আলী গাজী। এর আগে তিনি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে দলের মধ্যে ও বাহিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কিছু অনুপ্রবেশকারীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল। জানাগেছে, চাঁদখালী ইউনিয়ন আ.লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর আলীর বিরুদ্ধে জেলা ও কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের কাছে অভিযোগ করেছে স্থানীয় আ.লীগের নেতাকর্মীরা। ২০১২ সালে তৎকালীন চাঁদখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মুনছুর আলী গাজী আ.লীগে যোগদান করেন। অতচ বিগত ২০১৯ সালে ৭ আগস্ট দলীয় প্যাডে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাড. সুজিত অধিকারী এক নির্দশনায় জানান, কোন ক্রমেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক সেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, নবাগত হাইব্রিড বা বিএনপি-জামায়াত থেকে আগত (২০০৮ সালের পরে যোগদানকারী) বা স্বাধীনতা বিরোধী কোন ব্যক্তিকে দলীয় তালিকায় স্থান দেয়া যাবে না। যোগদানের কয়েক মাস পরে মুনছুর আলী ইউনিয়ন আ.লীগের আহ্বায়ক পদে অধিষ্ঠিত হন। এবং গত ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে তিনি আ.লীগের টিকিট নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে বিএনপি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা জোয়াদুর রসুলের কাছে পরাজিত হন। শুধু তাই না, তার অবস্থান থাকে তৃতীয়। সে আ.লীগে যোগদান এবং আহ্বায়ক হওয়ায় চাঁদখালীর আ.লীগের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীরা দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তার ক্ষমতার অপব্যবহারে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। চাঁদখালী বাজারে সরকারি জায়গায় দ্বীতল ভবনের উপরে দলীয় কার্যলয়, নিচে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দোকানের পজিশন বিক্রি করেছেন। বাজারের পাশে সরকারি জায়গায় তিনতলা আলীশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকারী জায়গা দখল করে সহযোগীসহ তার অবৈধ ইট ভাটাও রয়েছে। এমনকি তার সহযোগীতায় হাট ইজারাদার মহিউদ্দীন খান নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নিজ আইনে চাঁদখালী বাজার পরিচালনা করছেন। বিগত ২০১৯ সালে ২৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর দিন তার ইন্দনে ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা চাঁদখালীর আ.লীগ নেতা হারান চন্দ্র অধিকারীর বাড়িতে প্রায় দেড় শত লোক হামলা করে বাড়ি ভাংচুর করে। নাম না প্রকাশ শর্তে তৃর্ণমূল কর্মীরা এফএনএসকে বলেন, তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা ও মিথ্যা মামলা, সরকারি সম্পত্তিতে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করে বিক্রি সহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত তিনি। ইউনিয়ন কৃষকলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আজীজুল গাজী এফএনএসকে বলেন, তৎকালী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মুনছুর আলী গাজী থানা পুলিশের সাথে সখতা করে দলীয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলাসহ হয়রানি করছে। বর্তমান উপজেলা পরিষদ উপণ্ডনির্বাচনে নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। অতচ আমার বিরুদ্ধে গত জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনী অফিস পুড়ানো মামলা করা হয়। বর্তমান ইউনিয়ন কৃষলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক কলেজ ছাত্রলীগনেতা ও ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি মো. আ: করিম মোড়ল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে এফএনএসকে বলেন, মানুষের ব্যবহার ভালো হলে সব ভালো হয়, আচরণ ভালো না হলে অপকর্ম তো করবে। ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মাজহারুল গাজী এফএনএসকে বলেন, গত ২০১০ সালে তৎকালীন সময় মুনছুর আলীকে থানা পুলিশ নানা বলে ডাকতেন। সে সময় পুলিশ কে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে জেল খাটায় বলে অভিযোগ করেন। আ.লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কাইয়ুম হোসেন এফএনএসকে বলেন, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করছে তিনি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতা মুনছুর আলী গাজী বিএনপি নেতা ছিলেন বা ২০১২ সালে আ.লীগে যোগদানের সকল ডকুমেন্ট হস্তগত হলেও তিনি বিএনপি করতে না বলে এফএনএস প্রতিনিধির কাছে মিথ্যা ভিডিও সাক্ষাৎকার দেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিজস্ব লোক দিয়ে মারপিট-মিথ্যা মামলায় জড়ানো, জবর দখল প্রমাণ থাকলে আমার নামে মামলা হতো। আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের প্রমাণ নেই। চাঁদখালী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাদা মো. আবু ইলিয়াস এফএনএসকে বলেন, জামায়াত-বিএনপি থেকে আ.লীগে অনুপ্রবেশকারী সাবেক এ সিনিয়র ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর আলী গাজীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মন্তব্য করতে আমার রুচিতে বাধে।