খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি সপ্তম শ্রেণীর হিন্দু ছাত্রী রিতু মন্ডল অপহরণের ১১ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। সন্ধান না পাওয়ায় ছাত্রীর বাবা-মা কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন। মেয়েকে পাওয়ার আশায় তারা উদ্বাস্তের মত ছুটে চলেছেন এখানে ওখানে। রিতু মন্ডল (১৩) উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের হত দরিদ্র দিন মজুর আদিত্য মন্ডলের একমাত্র কন্যা। সে ডুমুরিয়া উপজেলার আলাদীপুর কেএমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রী। গত ২ মে মঙ্গলবার তার স্কুলের সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়েছে বলে জানাযায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা আদিত্য মন্ডল গত ৬ মে ডুমুরিয়া থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৭/১২৯। এজাহারে উল্লেখ, প্রতিদিনের ন্যায় রিতু মন্ডল গত ২ মে আলাদীপুর কেএমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ দিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সে তার স্কুলের সামনে রাস্তায় পৌঁঁছানো মাত্রই ডুমুরিয়া উপজেলার সাজিয়াড়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা শেখের ছেলে সালমান শেখ (১৯) তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অপহরণকারী সালমান শেখ অনেক দিন ধরে তার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া পথে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মামলায় অপহরণকারীর ভাই রসুল শেখ (২৩) ও তার বাবা মোস্তফা শেখ (৫৫) কে আসামি করা হয়েছে। এদিকে ভিকটিম রিতু মন্ডলের উদ্ধারের বিষয়ে কোন অগ্রতী বা কোন ক্লু উদ্ধার হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ কনি মিঞা বলেন, তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান চলছে। এর বেশি কিছু জানাতে পারেনি। তবে মূল আসামি সালাম শেখ বকাটে মাদক সেবনকারী ও মেয়েদে উক্তকারী হিসাবে পরিচিত। এলাকাবাসী সালামের অভিভাবক অন্য দু’আসামী পিতা ও ভাইকে অপকর্মের কথা জানালেও কোন ব্যবস্থা নেইনি বলে জানা যায়।