খুলনার পাইকগাছায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান ও গো-খাদ্য বিচুলীর দাম বেশী থাকায় কৃষকরা খুশি। উপজেলায় পুরাদমে আমন ধান কর্তন চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলার কৃষকের ধান কাটা শুরু করেছেন যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার উপজেলার পাতড়াবুনিয়া গ্রামের কৃষক আশিষ রায়ের ক্ষেতের ধান কেটে এ কর্মসূচি'র উদ্বোধন করেন জেলা যুবলীগ সভাপতি চৌধুরী রায়হান ফরিদসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। উঁচু ক্ষেতের আমন ধান কর্তন শেষ হয়েছে। তবে নিচু ও মৎস্য লিজ ঘেরে আমন ক্ষেতের ধান কাটা ও মাড়াই চলছে। আগামী দু’সপ্তার মধ্যে পুরা জমির ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। আবহাওয়া জনিত কারণ ও মৎস্য লিজ ঘের গুলোতে দেরিতে আমনের আবাদ করা হয়। সে জন্য আমন কাটাও দেরিতে শুরু হয়। নতুন আমন ধান আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন বোরো ধান মন প্রতি এক হাজার ৫শত থেকে ১১শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধানের থেকে গো-খাদ্য বিচুলীর চাহিদা ও মূল্য বেশী থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় ৫ হাজার ৬শত ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। উঁচু ক্ষেত্রের ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। মৎস্য লিজ ঘেরের ধান কাটা চলছে। প্রায় ৪০ ভাগ ক্ষেতের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে, ৪০ ভাগ কর্তন চলছে আর ২০ ভাগ এখনও কাঁচা রয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন হাইব্রীড ৬.০৯ মেট্রিকটন, উফশী ৫.৫০ মেট্রিকটন হারে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের পুরাইকাটী কৃষক ফারুক হোসেন জানান, ক্ষেতের দু’একটি শীষে ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে। তারপরও তার ৫ বিঘা জমিতে গত বারের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তোকিয়ার কৃষক শফিকুল জানায়, বোরো আবাদে খরচ বেশি হয়। ধানের দাম ভালো ও অধিক দামে বিচুলী বিক্রি হওয়ায় খরচ পুষিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও ক্ষেত সঠিক ভাবে পরিচর্যা করায় বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা ধান ও গো-খাদ্য বিচুলীতে অধিক দাম পাওয়ায় বোরো চাষে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।