দেশের দুর্যোগ প্রবনতা এলাকা বলে পরিচিত খুলনার উপকুলীয় জনপদ কয়রায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বোরা চাষাবাদ করা কৃষকরা বেশ খুশি। তবে বাম্পার ফলনেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। কৃষকরা বলেছেন, বাজারে যে দামে ধান-চাল বিক্রি হচ্ছে তাতে উৎপাদন খরচ উঠবে না। এমনকি সরকার ধান-চালের যে দাম নির্ধারণ করেছে, তাতেও পোষাবে না। আবার উৎপাদন বেশি হলে কম দামে ধান-চাল বিক্রি করতে হয় তাদের। কয়রা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে কয়রার ৭ টি ইউনিয়নে ৪৮৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪৯৮৬ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, অনেকের কাছ থেকে ধার দেনা করে বোরা ধান চাষ করি। এ বছর বেশি দামে সার-ডিজেল কেনা ও সেচসহ ধান চাষে এবার অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে তাদের। কিন্তু বাজারে যে দামে ধান-চাল বিক্রি হচ্ছে তাতে উৎপাদন খরচ উঠবে না। বাম্পার ফলনেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন চাষিরা। সরেজমিনে ৭ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোনালী ধানে ধুলছে ফসলি মাঠ। অনেকে ইতোমধ্যে ধান কাটছে। আবার অনেকেই ধান মাড়াই করছে। যাদের জমির ধান এখনও কাটেনি তাদের প্রতিটি গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে ধান। আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন। তবে অনেক এলাকায় এ বছর ব্লাস্টারের কারণে ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। তা চাড়া পানির যোগান না দিতে পারায় অনেকের রোপা বোরা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আগামীতে পানির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। ২নং কয়রা গ্রামের কৃষক জিয়াদ আলী বলেন, এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সারের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেলসহ অন্য সব সামগ্রীর দাম বেশি ছিল। এমনকি ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত শমিমকদের মজুরি বেশি। ধান কাটতে একজন শ্রমিককে ৬০০-৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। ফলে ধান চাষ করতে যে টাকা খরচ হয়, তা উঠছে না। আবার দাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ দিয়ে ধান চাষ করতে হয়েছে। ফলে ন্যায্যমূল্য না পেলে তাদের লোকসানে পড়তে হবে। একই গ্রামের রেজাউল সানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হয়েছে। চারা রোপণে খরচ বেশি হয়েছে। শ্রমিকদের বেশি মজুরি দিতে হয়েছে। সেইসঙ্গে সারও কিনতে হয়েছে বেশি দামে। এসবের মাঝেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি। কারণ সরকার ধান-চালের যে দাম নির্ধারণ করেছে, সে দামে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হয়।’তিনি এ বছর ১ বিঘা জমিতে ২৫ মন ধান উৎপাদন করতে পেরেছে। ৫নং কয়রা গ্রমের কৃষক নুর ইসলাম মোড়ল বলেন, এ বছর প্রথম বোরো ধান লাগাই লাগানোর পর ভাল হয় ধান গাছ তবে পানি যোগান দিতে না পারায় ধান গাছ মারা যায়। তিনি পানির ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছে। উপ-সহকারি কৃষি অফিসার অনুতাব সরকার বলেন, বোরা ধান চাষাবাদে কৃষি অফিসের পক্ষ হতে কৃষকদের পাশে গিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বছর কয়রার ধান ভাল হয়েছে বলে তিনি জানায়। উপজেলা কৃষি অফিসার অসিম কুমার দাস বলেন, এ বছর কয়রার ৭ ্িট ইউনিয়নের ২ হাজার কৃষকদের বিনামুল্যে বীজ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ১ হাজার কৃষকদের মাঝে বীজ সহ স্যার দেওয়া হয়েছে। কয়রার বোরো উৎপাদনে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আগামীতে এর চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে।