পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও চাষিরা তেমন সফল পাচ্ছেন না। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণে চাষিরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এ ছাড়া ধানে মাইন পচা রোগও দেখা দিয়েছে। ফলে ধানের ভালো ফলন নিয়ে শঙ্কায় আছেন চাষিরা। দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এ বছর কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর কারণ হিসেবে উপজেলা কৃষি দপ্তর বলছেন, কৃষি জমিতে নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণের নিমিত্তে বালি ভরাট ও মাছের ঘেরে বোরো চাষ না করে মাছ চাষ। কয়েকটি এলাকায় আংশিক সেচের অভাবও রয়েছে। এ ছাড়া কিছু জায়গায় পোকার আক্রমণের খবর পাওয়ার পর কৃষি অধিদপ্তর থেকে ওই সব এলাকার কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া সদর, সেনহাটি, বারাকপুর ও গাজীরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন বোরো ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, বোরো ধানে মাজড়া ও এক ধরনের পোকা ধানের মাইজ কেটে দিচ্ছে, অনেক জায়গায় পোকা পাতা ছিদ্র করছে। উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের ফরমাইশখানা এলাকায় কৃষি কার্যালয়ের পরামর্শ মতো কীটনাশক ছিটিয়েও ফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। স্থানীয় কয়েকজন চাষি জানান, কয়েক দিনের মধ্যে গাছে ধানের ছড়া (শিষ) বের হওয়ার সম্ভাবনা। কিছুকিছু বের হয়েছে। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে পোকার আক্রমণ। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও তেমন কাজ হচ্ছে না। চাষ ও সেচে এমনিতেই অনেক খরচ হয়েছে। এখন পোকা আক্রমণ করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো পোকা দমন করতে না পারলে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হবে। দিঘলিয়া ইউনিয়নের রাকিব মোল্যা ও শেখ আকতার হোসেন মেম্বরসহ কয়েকজন কৃষক তাঁর জমিতে পোকার আক্রমণের কথা জানান। তাঁরা আরও জানান, সেচের সমস্যায় বিশেষভাবে অনেক টাকা খরচ করে এবার বোরো ধান চাষ করেছেন। কিছু ধানের ১০ দিনের শিষ ইতোমধ্যে বের হয়েছে। আবার বাকী ধানেরও শীষ বের হবে। এমন সময় পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই পোকা ধানগাছের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এমন অবস্থায় তারা কৃষি কার্যালয়ের সহযোগিতা কামনা করছেন। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দলবদ্ধ ও গুচ্ছভাবে মাঠের পর মাঠ যেখানে ধান চাষ হয় সেখানে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ হয় না। যেখানে বিচ্ছিন্ন জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে তারা ঠিকমত সময়মত কীটনাশক ও বালাই দমনে কৃষি দপ্তরের পরামর্শ কাজে লাগায় না। সে সকল জমিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবুও উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণের পক্ষ থেকে এ সকল জমি পরিদর্শন করে ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দিঘলিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ কামাল হোসেন জানান, সরিষার জমিতে নামিতে ধান লাগানো ও ওষুধ প্রয়োগে বিলম্ব হওয়ায় শুধু ওই দুইজন কৃষকের জমিতে মাজড়া পোকা আক্রমণ করেছে। পরামর্শ মতাবেক ওষুধ প্রয়োগে মাজড়া দমন হয়েছে। আমি বার বার জমি পরিদর্শন করছি। এখন আর বড় ধরণের সমস্যা হবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কিশোর আহমেদ বলেন, মূলত এই সময়ে মাজরা পোকার আবির্ভাব ঘটে। আর দিঘলিয়ায় ধানে মাজড়া পোকা আক্রমণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রায় ৬০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এবার হাইব্রিডসহ সকল প্রকার ধানের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে।