বঙ্গপোসাগর উপকূল খুলনার পাইকগাছা-কয়রায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের খাবার পানির হাহাকার দীর্ঘ দিনের। দুই উপজেলা ২১৫৮.৬৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে পাইকগাছা পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নে প্রায় সবখানে দীর্ঘকাল যাবত সুয়েপ পানির তীব্র সংকট রয়েছে। পাইকগাছায় সরকারি ৩ হাজার ৫৫৫টি নলকূপের মধ্যে ১ হাজার ২৯২টি অকেজো। সচল ৯৫শতাংশ নলকূপের পানি খাওয়ার অনুপযোগী। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গড়ইখালী, লস্কর, দেলুটি, সোলাদানা ও লতা ইউনিয়নে আজ পর্যন্ত কোনো নলকূপ স্থাপন সফল হয়নি। বৃষ্টির জলাধার একমাত্র ভরসা। এদিকে হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়-লি, গদাইপুর ও চাঁদখালী ইউনিয়নের কোনো কোনো এলাকা সরকারি বেসরকারি নলকূপ থাকলেও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার ছাড়া খাওয়ার অনুপযোগী বলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌঁশলী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান। খাবার পানির এ সংকট সমাধানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সহ সরকারিভাবে ৬ হাজার, ৩৮৭টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। যার পানি ধারণ করে ২ থেকে ৩ হাজার লিটার। পাইকগাছায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বসানো হয়েছে ৩০টি “আর ও” প্লান্ট। যা দিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ করে খাওয়ার উপযোগী করা হলেও কোথাও কোথাও ভূগর্ভস্ত পানির স্তর নেমে যাওয়ায় চাহিদা মোতাবেক পানি মিলছে না স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জানা যায়। গড়ইখালী ইউনিয়নের ৩০ হাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ১০-১৫ হাজার লোক এ পুকুরে পানি খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম কেরু বলেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৪৮টি পাইপ লাইনের মাধ্যমে রিফিয়ারিং পয়েন্ট বসানো হয়েছে। যা ওই পুকুর থেকে সরবরাহ হয়ে থাকে। অন্যান্য ইউনিয়নে আকিজ গ্রুপসহ সরকারিভাবে পানির ফিল্টার বসানো হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল ও লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস। কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দ্দার বলেন, আমার ইউনিয়নে সুয়েপ পানির তীব্র সংকট রয়েছে। তবে সরকারের পাশাপাশি এনজিও গুলো সুয়েপ পানির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্যা রুরাল পূয়র (ডরপ) পানিই জীবন প্রকল্প উপজেলা সমন্বয়কারী মো. আবু সায়েম হোসেন বলেন, প্রকল্প থেকে ৫৫টি পিএসএফ মেরামত, এ্যাডভোকেসী করে ৩০টি পিএসএফ মেরামত, ১৩১১টি প্লাষ্টিক ট্যাংক হতঃদরিদ্র পরিবারে স্থাপন, এ্যাডভোকেসী করে ১১০০টি প্লাষ্টিক ট্যাংক হতঃদরিদ্র পরিবারে স্থাপন, ২৮৫টি এ্যাডভোকেসী করে অগভীর নলকূপ হতঃদরিদ্র পরিবারে মাঝে স্থাপন করা হয়েছে। সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ‘আমার নির্বাচনীয় এলাকার মানুষের সব থেকে বড় সমস্যা খাবার পানির। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ হেলাল উদ্দিনের একান্ত সহযোগিতায় এ সমাস্য সমাধানে পৌরবাসীর জন্য আমার শিববাটী বাড়ি ও মধুমিতা পার্কে দুটি পানি বিশুদ্ধ করণ প্লান্ট তৈরি করেছি। যেখান থেকে প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ সবাই এখান থেকে সংসারের প্রয়োজনীয় পানি নিচ্ছেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ট্যাংকের ব্যবস্থা করেছি। স্থায়ী সমাধানে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।