খুলনার পাইকগাছায় হরিঢালীতে টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই ইউআরএসএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দাশ ও সভাপতি প্রফেসর হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, অবিভাবক ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে উলুডাঙ্গা ইউআরএসএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক খন্ড পতিত জমি আছে। জমিতে দীর্ঘ ১০/১২ বছর পূর্বে শতাধিক শিরিষ গাছের চারা রোপণ করা হয়। গাছগুলো বেশ বড় আকৃতির হওয়ায় নজরে আসে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির। পরবর্তীতে তারা ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকে কৌঁশলে কোন রকম টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই সভাপতির ভাইপো স্থানীয় তানজিম মুস্তাফিজ বাচ্চুর নিকট ৫০/৬০টি মূল্যবান শিরিষ গাছ ২৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। গাছগুলোর বাজার মূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা। গাছ ক্রেতা বাচ্চু বিদ্যালয়ের শিরিষ গাছ কেটে নিচ্ছেন। এলাকাবাসী জানান, স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ইতঃপূর্বে তারা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগে এলাকায় মানববন্ধন সহ আদালতে মামলা ও হয়েছে। গাছকাটা শ্রমিকরা জানান, বাচ্চু স্কুলের এ গাছ কিনেছে, তার নির্দেশে গাছ কেটে নিচ্ছি। তানজিম মুস্তাফিজ বাচ্চু জানান, আমি প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দাশের কাছ থেকে গাছ কিনেছি। তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা, এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন। বিদ্যালয়ের অবিভাবক সদস্য হালিম মোড়ল ও আফজাল মোড়ল জানান, গাছগুলো বেশ বড় হওয়ায় নজর পড়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির। পরবর্তীতে তারা সু-কৌঁশলে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকে কোনো রকম টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই সভাপতির ভাইপো বাচ্চুর নিকট গাছ বিক্রি করেছেন। মিটিংএ সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ছাড়া মাত্র দু'জন অবিভাবক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। গাছ বিক্রির সময় রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো আমরা কেউ ঐ রেজুলেশনে সই করিনি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অন্য দু'অবিভাবক সদস্য ওয়াদুদ কাগজি ও প্রকাশ দে জানান, গাছ বিক্রির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না এবং এ-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো রেজুলেশনেও তারা সই করেননি। প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দাশ মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে মিটিং ডেকে রেজুলেশনের সিদ্ধান্তে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। তবে রেজুলেশনে এখনো পর্যন্ত কেউ সই করেননি। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের সাথে সমন্বয় করে রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। উপজেলার বন কর্মকর্তা প্রেমানন্দ জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে সঠিক কারণ দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে। তারপর আমরা পরিমাপ করে দিলে তারা গাছ কাটতে পারবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী শেখ জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ব্যাতিত গাছ না কাঁটার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, বিষয়টি জানা মাত্রই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।