খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি বহিরাগত ধনাঢ্য শেখ আনারুল ইসলাম সরকারি রাস্তায় প্রাচীর দিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজেগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার প্রায় ২০টি পরিবার। এ-সংক্রান্ত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট করা হয়েছে। অভিযোগে উপজেলা আ.লীগ সহ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, কপিলমুনি ইউনিয়ন আ.লীগ প্রায়ত সভাপতি যুগোল কিশোর দে, কপিলমুনি কলেজ অধ্যক্ষ মো. হাবিবুল্যাহ বাহার, কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির স্কুল এ- কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল, কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান ও বিভিন্ন বিশিষ্ঠ জনের সুপারিশসহ ইউপি সদস্য ছকিনা বিবি প্রধান থেকে এলাকার শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরে ৫ ফেব্রুয়ারী অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে সরকারি রাস্তা কিনা তাকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ উপজেলার কপিলমুনি দক্ষিণ বঙ্গের একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। আধুনিক কপিলমুনির রূপকার দানবীর স্বগীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণের জন্য বাজার ও বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অগণিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এ অঞ্চলে অনেক গুণী ও সুধিজনের আর্বিভাব হয়েছে। আবার গুণী ও সুধীজনের বিপরীতে গুটিকয়েক অশুভ ও সমাজ ক্ষতিকারক লোক বাহির থেকে এসে মুনি ঋষিদের নিজ হাতে গড়া কপিলমুনির উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই অংশ হিসাবে সরকারি রাস্তার উপর অবৈধভাবে প্রাচীর নির্মাণ করায় এলাকার বিশাল অংশ জলাবদ্ধতাসহ জনগণের চলাচলের বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাটি বন্ধ করার ফলে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতসহ কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বহন করে বাজারে বিপনে বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকার জনগণসহ ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনা করে রাস্তাটির উত্তর মাথা হতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যেগে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থ দিয়ে ইটের সোলিং নির্মাণ করা হয়েছে। ৪০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাস্তার বাকি অংশ মাটি দ্বারা উন্নয়ন করা হয়েছে। রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ চলাকালিন সময়ে রাস্তার উপর সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু তার নির্মিত প্রাচীর তিনি নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু অন্য এলাকা থেকে আগত শেখ আনারুলকে তার প্রাচীর সরিয়ে নেওয়ার জন্য বার বার বলা হলে অদ্যাবধি তা সরিয়ে নেননি। ফলে এলাকাবাসীর পক্ষে ইউপি সদস্য ছকিনা বিবি ইউপি চেয়ারম্যান মো. কওসার আলী জোয়াদ্দার নিকট আবেদন করেন। তিনি ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ অধিকারী ও ইউপি সচিব মো. আ. গণি গাজীকে বিষয়টি সরেজমিনে নিরসনসহ প্রাচীর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও অদ্যাবধি প্রাচীর সরিয়ে নেই নাই। রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে ইটের সোলিং নির্মাণের জন্য এডিপি খাতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাস্তাটি ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন করা হলে একদিকে যেমন স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকায় জনগণের চলাচলের সুবিধা হবে অন্যদিকে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল বহন করে বাজারে বিপনন করতে পারবেন। সরেজমিনে ও ভূমি অফিসের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখে যায় নাছিরপুর মৌজার এসএ ২৭ খতিয়ানের ২৫.১৩ একর জায়গা বহিরাগত ধনাঢ্য আনারুল ইসলামসহ প্রভাবশালীরা দখল করে রাখছে। যার মালিক চেয়ারম্যান খুলনা ডিস্টীক বোর্ড। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুস সবুর অভিযোগের কপি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন সরকারি রাস্তায় প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করা হবে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. কওসার আলী জোয়াদ্দারের ফোনে বার বার চেষ্টা করে না পাওয়ায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।