খুলনার পাইকগাছায় সুন্দরবন সংলগ্ন গড়ইখালী ইউনিয়নে খুদখালী ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫শ ফুট এলাকা জুড়ে ফাঁটল দেখা দেওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের আশপাশের বসতবাড়িতেও ফাঁটল দেখা দিয়েছে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ। ইউপি চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধায়নে বিকল্প প্রতিরক্ষা বাঁধ কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ১ কিলোমিটার বাঁধ দ্রুত মেরামত করার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন ইউনিয়ন গড়ইখালী। ইউনিয়নের পূর্বকুমখালীর খুদখালী এলাকার ওয়াপদার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ইতোপূর্বে ওই এলাকার আধা কিলোমিটার বাঁধ বালুর বস্তা দিয়ে মেরামত করা হয়। মেরামতকৃত বাঁধের সামনে থেকে বেলাল সরদার ও আছাদুল মুন্সির বাড়ি সংলগ্ন এলাকার ৫শ ফুট বাঁধে গত বৃহস্পতিবার ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দেয়। ওই এলাকার ১ কিলোমিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। বাঁধের আশেপাশের বসতবাড়িতেও ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এতে শঙ্কিত হয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। খুদখালী এলাকার ওয়াপদার পাশের বাসিন্দা মফিজুল সানা এফএনএসকে জানান, যে কোন মূহুর্তে আমার ৩টি বসতবাড়ি শিবসা নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে। এতে আমরা গৃহহীন হয়ে পড়বো। আসমা বেগম এফএনএসকে জানান, আমাদের বসত ঘরের মাঝ দিয়ে বড় ধরণের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি না, আমরা শঙ্কিত। ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আবদুস সালাম কেরু এফএনএসকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পাশে বিল থেকে মাটি এনে বিকল্প প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ করছি। তবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার ১ কিলোমিটার বাঁধ টেঁকসই করার জন্য বালু বস্তা ও পাথরের ব্লক দিয়ে ডাম্পিং করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাঁধ রক্ষা করা না গেলে গড়ইখালী, চাঁদখালী ও কয়রার আমাদী এবং মহেশ^রীপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম এফএনএসকে জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প নির্মাণ কাজে সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌঁশলী রাজু হাওলাদার এফএনএসকে জানান, শনিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌঁশলী আশরাফুল আলম ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বালুর বস্তা ডাম্পিং করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।