দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা কয়রার দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের মানুষের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইউনিয়নটি। তার পরেও মানুষ আশায় বুক বেঁেধ বসবাস করছে। ঐ ইউনিয়নের লোকদের উপজেলা ছাড়াও জেলা শহরের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি এতই খারাপ যে সেরাস্তা দিয়ে হেটে চলাচল খুবই দুরহ ব্যাাপার হয়ে দাড়িয়েছে। সড়কে হেলেদুলে চলে গাড়ি। মাঝেমধ্যে খানাখন্দে আটকে যায় গাড়ির চাকা। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালকেরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কিছু জায়গায় ইট সাজিয়ে দিলে ভাঙাচোরা রাস্তায় মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল ছাড়া আর কোনো যানবাহন চলতে পারে না। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাটকাটা থেকে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের গোলখালী পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তার এ দুরবস্থা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের (এলজিইডি) অধীন এ রাস্তা দিয়েই দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তাটি বেহাল হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা য়ায় রাস্তার গর্তে চাকা দেবে যাওয়ায় মোটরসাইকেল রেখে সেখানে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছিলেন এক চালক। পরে গাড়িটি ঠেলে পার করলেন তিনি। এর খানিকটা দূরেই দেখা গেল আরও একটি বড় গর্ত। সেটিও এভাবে ঠেলে পার হতে হবে বলে জানা গেল। মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলছিলেন, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়েই চলে আমার সংসার। এক দিন গাড়ি না চালালে সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে ভাঙাচোরা রাস্তায় গাড়ি চালাই। ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ী প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। তবুও রিুপায় হয়ে চালাতে হয়। কতবার বলার পরেও রাস্তাটির আর সংস্কার হলোনা। কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ রায় বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে দূরের শিক্ষার্থীরা সময় মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না। এ ছাড়া রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ইউপি দক্ষিন বেদকাশি চেয়ারম্যন আছের আলী মোড়ল যুগান্তরকে বলেন, ঐ ইউনিয়নের কোষ্টগার্ড, বন বিভাগের স্টেশন অফিস, কাস্টমস অফিস ছাড়াও নৌ-পুলিশের একটি থানা রয়েছে। এত কিছুর পরেও রাস্তাটি কি কারণে সংস্কার করা হচ্ছেনা তার কোন প্রশ্নের উত্তরের জবাব নেই তার কাছে।