খুলনার পাইকগাছায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ডলার চক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে-দিনে এ চক্র হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য এবং গড়ে তুলেছে শক্ত একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সময়ে নানা কৌঁশলে প্রতারনার বেড়াজালে আটকে সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। শেষমেশ এ সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পাননি পৌরসভা বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সাধু। খপ্পরে পড়ে খুইয়েছেন ৪ লক্ষাধিক টাকা। উপজেলার চাঁদখালী ইউপি'র বাসিন্দা ও ডলার চক্রের বরপুত্র খ্যাত সু-চতুর কিনা গাজীর প্রতারনায় বেড়াজালে এ মোটা অংকের টাকা খুইয়েছেন বলে অভিযোগ তার। বাজার ব্যবসায়ী ও চাঁদখালী এলাকার বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত বাছের গাজীর পুত্র ও ডলার চক্রের মৃলহোতা সু-চতুর কিনা গাজীর নেতৃত্বে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেটটি ডলার ব্যবসা সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন কৌঁশলে নিরিহ মানুষকে একের পর এক প্রতারনার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে পুলিশী তৎপরতায় মাঝে মধ্যে এ চক্রের সদস্যরা গা ঢাকা এবং কর্মকা- বিরতি দিলেও সুযোগ বুঝে ডলার প্রতারনার কারবার যথারীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২১ সালে তাদের প্রতারনার শিকার হন ব্যবসায়ী উত্তম সাধু। তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ৪ লাখ টাকা। অনেক খোজাখুজির পরে প্রতারকে কোন হদিস না পেয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। পরে ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর হঠাৎ উপজেলার সামনে কিনা গাজীর দেখা পেয়ে ব্যবসায়ীরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সু-চতুর এ প্রতারক প্রথমে কৌঁশলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারন করে রাখেন। অভিযুক্ত কিনা গাজী জানান, আমি উত্তম সাধুর কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। সে আমার বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তুলেছে। বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তার দেওয়া স্বীকারোক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌঁশলে এড়িয়ে যান এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ব্যবসায়ী উত্তম কুমার সাধু জানান, স্বল্পমূল্যে ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক কিনা গাজীর নেতৃত্বে ডলার চক্রের সদস্যরা অভিনয় শুরু করেন। তারা প্রতারনার ফাঁদ পেতে আমাকে সাতক্ষীরার গুনরাকাটির হুজুর বাড়ীর কাছে নিয়ে একটি সরু রাস্তায় ঢুকিয়ে ডলার দেওয়ার কথা বলে কৌঁশলে নগদ ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তখন কোনো কুলকিনারা না পেয়ে আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। এরপর তারা আমাকে সেখানে অপেক্ষায় রেখে চতুরতার সাথে সুকৌঁশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতারক কিনা গাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অল্প দিনের মধ্যে আমার সমুদয় টাকা পরিশোধের কথা বলে তার ভাগ্নে রিপনের জিম্মায় ছাড়া পেলেও অদ্যবদি পরিশোধ করেইনি বরং উল্টো আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শে তার টাকা পুনঃউদ্ধার ও জানমালের নিরাপত্তায় থানায় মামলার প্রস্ততি নিচ্ছেন তিনি।