খুলনার পাইকগাছায় ডাক্তার ও সাংবাদিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগে আদালত ও থানায় মামলা করেছেন। সাংবাদিক শেখ সেকেন্দার আলী বাদি হয়ে ২৪ জানুয়ারি ডাক্তার দম্পতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা চেষ্টা, মারপিট, চুরি ও ভয়ভীতির অভিযোগে মামলা করেছেন। অপরদিকে এরআগে ২১ জানুয়ারি উপজেলার আগড়ঘাটা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী মেডিকেল অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম, ভাংচুরের ও চাঁদাদাবীর অভিযোগে ৪ সাংবাদিকসহ ৫ জনের নামে থানায় মামলা করেছেন। মামলা নং-২১। সাংবাদিকের অভিযোগ গত ১৯জানুয়ারি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অনুপস্থিত থাকায় সেখানকার আয়া ডাক্তারের চেয়ারে বসে রোগি দেখেন ও ওষুধ দিতে থাকে। খবর পেয়ে সাংবাদিক আবদুল মজিদ সরদার বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প.প. কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদারকে অবগত করেন। তিনি ঘটনার ছবি তুলে তাকে দিতে বলেন। তাৎক্ষণিক আ. মজিদ ঘটনার ছবি তুলে পাঠান। এ খবর জানাজানি হলে ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী ও তার সঙ্গীয়রা সাংবাদিক মজিদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। পরদিন ডাক্তার দম্পতি মজিদকে পেয়ে মারপিট করে ও ভয়-ভীতি দেখায়। বিষয়টি অন্য সহকর্মীরা অবগত হয়ে ডাক্তারের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের মারপির, হত্যা চেষ্টা, ভিডিও ক্যামেরা, মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে। পরে আহত সাংবাদিক আ. মজিদ সরদার উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। অতঃপর এ বিষয়ে থানা পুলিশ এজাহার নিতে অস্বীকার করেন। ২৪ জানুয়ারি সাংবাদিক শেখ সেকেন্দার আলী পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই খুলনা কে তদন্তের নির্দেশ দেন। ডাক্তারের থানায় মামলা সূত্রে, ২১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় আসামীগণ আগড়ঘাটা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিসে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তার কাজে বাঁধা প্রদান করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় আসামিরা টেবিলের উপরে থাকা কেটলি দিয়ে ডাক্তারকে সজোরে আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। ডাক্তারের চিৎকারে তার স্ত্রী উপরতলা বাসা থেকে নেমে আসলে তাকে টানাহেছড়া করে মারপিট করে। এ সময় তারা অফিসের বিভিন্ন ঔষধসহ জিনিসপত্র নষ্ট করে। এ ঘটনায় ৪ সাংবাদিকসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের নামে মামলা করেন। পাইকগাছা থানা ওসি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, থানায় ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলা করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডাক্তার ও সাংবাদিক পাল্টাপাল্টি মামলায় ব্যাপক উত্তেজনাসহ সাধারন মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা বিরাজ করছে।