আগামী ২৬ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) জ্ঞানের আলো ছড়াতে মর্ত্যে আসছেন বিদ্যার দেবী সরস্বতী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এই সরস্বতী পূজাকে সামনে রেখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মৃৎ শিল্পী এবং বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে প্রতীমা তৈরী ও বেচা-কেনায়।
বাঁশ,খড় ও কাদামাটি দিয়ে প্রতীমার অবকাঠামো তৈরী ও রং এর প্রলেপ দেওয়া শেষে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও পালপাড়াতে সরস্বতী প্রতিমা তৈরী ও বেচা-কেনায় ধুম পড়েছে। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বাড়ীতেই সরস্বতী পূজা হওয়ায় চাহিদা রয়েছে এই প্রতীমার।
সরেজমিন গত সোমবার উপজেলার শোলগাতিয়া গ্রামে মৃৎশিল্পীদের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়,ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের প্রতীমা তৈরীর কাজ চলছে। চলছে বেচা বিক্রি। মৃৎশিল্পীরা দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছে।
মৃৎ শিল্পী কার্তিক পাল ও বিধান পাল বলেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রতীমা বানাচ্ছি। সারা বছরই বিভিন্ন দেব-দেবির প্রতীমা তৈরী করি। এবার বিভিন্ন সাইজের সরস্বতী প্রতিমা তৈরী করছি। কিছু প্রতীমার বায়না নেওয়া থাকে। এছাড়াও কিছু প্রতীমা বানানো থাকে, যাতে ক্রেতারা শেষ মুহূর্তে বায়না না দিয়েও কিনতে পারে।
মৃৎ শিল্পী নকুল পাল বলেন, প্রতীমা তৈরী ও তার সাজসজ্জার যে কাঁচামাল তার দাম বেড়েছে। ফলে প্রতীমা তৈরীর খরচ অনেকটাই বেড়েছে। যারা আগে থেকে বায়না করেছেন তারা অতিরিক্ত দাম দিতে রাজী নন। তার উপর যাতে বিক্রিতে ভাঁটা না পড়ে তাই প্রতিমার দাম বাড়াতে পারছি না।
শোলগাতিয়া বাজার সংলগ্ন পাল পাড়ায় প্রতীমা বানাতে থাকা মৃৎশিল্পী অনিমা পাল ও আয়না রাণী পাল বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরী ও রং করায় ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা। কাজের চাপে দম ফেলার সময় নেই। এবার সাড়ে ৪'শ প্রতীমা তৈরী করছি, যা ১'শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হবে।
ডুমুরিয়া সদর বাজারের প্রতীমা বিক্রেতা অলিত্য সাহা ও ফটিক সাহা জানান,প্রতি বছর তারা খুলনার সেনহাটি এলাকা থেকে পাইকারি মূল্যে সরস্বতি,লক্ষীসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতীমা কিনে এনে বিক্রি করেন।এলাকায় প্রতীমার চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট। তবে বড় সাইজের প্রতীমা গুলো দূর থেকে আনতে ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আগামীতে তারা স্হানীয় কারিগর দিয়ে বড় সাইজের গুলো তৈরি করে বিক্রি করবেন বলে জানান।
হিন্দু ধর্ম মতে, সরস্বতী বিদ্যার দেবী। হিন্দু শিক্ষার্থীরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় প্রতি বছর পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজা করে থাকে। বাসা বাড়ীর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে মহাসমারোহে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থী অনুপ দে,স্বপ্না রাণী রায় বলেন, প্রতি বছরই আমরা মা সরস্বতীর কাছে বিদ্যার জন্য প্রার্থনা করে থাকি। এবারও দেবীর কাছে বিদ্যা ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করবো।
পূজা-অর্চনা পড়ানোর কাজে নিয়োজিত পুরোহিত তুহিন মুখার্জি, ভানু আচার্য বলেন, আশা করছি এবার কোন ধরণের বাঁধা-বিপত্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে পারবো।স্থানীয় প্রশাসন পূজার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।