দেশের বৃহত্তম ১৩টি পাইকারি বাণিজ্যিক কেন্দ্রের একটি খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বাজার। আজ হতে প্রায় শত বছর আগে বাংলা ১৩৩৭ সালে এ আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু। শুধু বাজার নয় স্কুল, হাসপাতালসহ অসংখ্য সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান করে দেন। যা আজও স্বগৌরবে আপন মহিমায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশের দক্ষিণ সুন্দরবন ঘেষা জনপদ উপজেলার কপিলমুনিতে জন্ম নেন বিনোদ বিহারী সাধু। শত বছর আগে জঙ্গল পরিষ্কার করে মানুষ এখানে বসতি স্থাপন করেন। শুরু হয় দেশ-বিদেশে সড়ক ও নৌপথে ব্যবসা বাণিজ্য। এমন সময় দেবদূত হয়ে জন্ম নেন বিনোদ। মহান এই মানবের জন্ম ১৮৯০ সালের ২০ মে। পিতা যাদব চন্দ্র সাধু, মাতা সহচরী দেবী, পিতামহ ভরত চন্দ্র সাধু, পিতামহী অমৃতময়ী দেবী। তিনি পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান ছিলেন। কপিলমুনি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে পায়ে হেঁটে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে বিশ্ব বরেণ্য বৈজ্ঞানিক স্যার পিসি রায় প্রতিষ্ঠিত রাড়-লীর আরকেবিকে হরিশচন্দ্র ইনস্টিটিউটে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখায় তৎকালীণ ব্রিটিশ সরকার তাকে রায় সাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন। বেরি বেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় বাংলা ১৩৪১ সনের ৩ মাঘ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুপরবর্তী সময় বাজারের সকল ব্যবসায়ীরা গভীরভাবে স্মরণ করে আসছেন। তার ৮৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার কপিলমুনি বিনোদ স্মৃতি সংসদ, বিনোদ সংরক্ষণ পরিষদ, হ্যান্ডিং শ্রমিক, কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির স্কুল এ- কলেজ, বিনোদ বিহারী শিশু বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সকালে শোক শোভাযাত্রা শেষে তার প্রতীকৃতীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনাসভা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বেদ মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও দুপুরে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিনোদ স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. দীপঙ্কর সাহা বলেন, রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর কাছে এলাকার মানুষ চিরঋণী। বাজারের সকল ব্যবসায়ী তাকে ঈশ্বরজ্ঞানে দেখে আসছেন। এই মহান মানুষটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে তার তিরোধান দিবস ১৮ জানুয়ারি দিনটি বাজারে ব্যবসায়ীরা সকল দোকান বন্ধ রাখেন। ফলে অন্যত্র বাজার বসে। এবার কপিলমুনি কপোতাক্ষ নদে স্নান ঘাঠে খোলা জায়গায় নিত্য পণ্যের দোকান বসে। এটাই এক দিনের বাজার।