যশোর বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার লাউজনি রেলক্রসিংএ বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্মিত সরু রোড ডিভাইডারের কারণে প্রতি নিয়ত যানবাহন দূর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। (৯ জানুয়ারি) সোমবার পুলিশী উদ্যোগে রিপ্লেক্টিভ স্টিকারের ব্যবস্থা করেছেন।
বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ার কারণে এটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক। পরিবেশবাদীদের বাঁধার কারণে এই রাস্তাটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট সরু হয়ে গেছে। এ কারণে রাস্তার প্রশস্ততা আরও কমে গেছে। গত ডিসেম্বর মাসেই লাউজানি রেলক্রসিংএ ৭টি মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটেছে। আর নতুন বছরে এক সপ্তাহে ঘটেছে ২টি মারাত্মক ট্রাক দূর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার ফলে জান ও মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। রোববার (৮ জানুয়ারি) রাত একটায় ঘন কুয়াশার কারণে একটি কাভার্ড ভ্যান ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় উল্টে গেছে। প্রতিনিয়ত এ দূর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেতে দূর্ঘটনা কবলিত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ড্রাইভার কুমিল্লার শরিফ জানান, রোড ডিভাইডারের স্থানটি আরও আধুনিক করা দরকার। তবেই দূর্ঘটনা কমবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের (রাজশাহীর) নির্বাহী প্রকৌশলী নাজিব কায়সার বলেন, আমিও ঘটনাস্থলে দূর্ঘটনাটা কবলিত গাড়ি দেখেছি। তবে রাতে কুয়াশার কারণে দূর্ঘটনা বেশি ঘটছে। দূর্ঘটনাটা রোধে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। ডিভাইডার তুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে বারবার একই জায়গায় দূর্ঘটনা ঘটায় ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত ব্যক্তি উদ্যোগে সোমবার (৯জানুয়ারী) ডিভাইডারে রিফ্লেক্টিং স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত নাভারন সার্কেল এ এসপি নিশাত আল নাহিয়ান বলেন, আমরা ডিভাইডারে স্টিকার লাগিয়ে চালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোর এর সমন্বয়ক মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, জানমালের ক্ষতি সাধন কারী এই মরন ফাঁদ ডিভাইডার গুলো অপসারণ করা না হলে আমরা খুব শীঘ্রই ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো।
ভারত বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এ- ইন্ডাস্ট্রিস এর পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, সরু রাস্তায় ডিভাইডার দেওয়ার ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনার কারণে জান ও মালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এটা অমানবিক। তিনি এই ডিভাইডার অপসারণের দাবী জানান।