রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে সিএন্ডবির জমি দখল কান্ডের জেরে কেশরহাট পৌরসভার বর্তমান ৪ কাউন্সিলর ছাড়াও ‘দুই ভাই সোনালী মৎস্য হ্যাচারী’ নামক এক কোম্পানীর ম্যানেজার কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতির মতো সাজানো মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অন্তোষ বিরাজ করছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের কেশরহাট বড় ব্রীজের উপর পিস্তল ঠেকিয়ে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে কেশরহাট পৌরসভার চারজন কাউন্সিলর ছাড়াও ‘দুই ভাই সোনালী মৎস্য হ্যাচারী’র ম্যানেজার কোরবান আলীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে ডাকাতির মতো মিথ্যা সাজানো মামলা দায়ের করেন এফজে মোটরসাইকেল শোরুমের ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান। সম্প্রতি ২৯ অক্টোবর শনিবার রাতে ডাকাতির ঘটনা দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর সিআর ১৯/২০২২। এহেন মামলা দায়ের করা হলে বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে তা মোহনপুর থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। ফলে ওসি মামলাটি থানায় রেকর্ড করেন। পরে ওই মামলা হতে এজাহার নামীয় ৫ জন আসামি উচ্চ আদালত হতে জামিনে রয়েছেন।
এমন সাজানো ডাকাতি মামলার বাদী মাহমুদ ইসলাম কেশরহাট বাজারের এফজে এন্টারপ্রাইজ নামক মোটরসাইকেল শো-রুমের ম্যানেজার। আর শো-রুমটির মালিক জামাল হোসেন। কিছুদিন পূর্বে শোরুম মালিক জামাল হোসেন ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দোকানঘর ভাংচুর, লুটপাট ও ছিনতাইয়ের মামলা করেছিলেন কাউন্সিলর সাবের আলী। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেশরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাবের আলী (৪৬), ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসলাম হোসেন (৪০), ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল হোসেন (৪৫) ও কাউন্সিলর সাবের আলীর ‘দুই ভাই সোনালী মৎস্য হ্যাচারী’ নামক কোম্পানীর ম্যানেজার কোরবান আলী (৩৬)। মামলার বাদী মাহমুদ ইসলাম নিজেও তার দায়েরকৃত মামলার অন্যতম সাক্ষী।
সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাজানো ডাকাতির মামলায় উল্লিখিত ঘটনাস্থল কেশরহাট বড় ব্রীজ। এটি একটি ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকা। সেখানে রয়েছে অনেক ব্যবসায়িক দোকানপাট ও ঢাকায় রফতানীকৃত মাছের আড়ৎ। তবে, ডাকাতির ঘটনা জানেন না দোকানিরা। কিন্তু ৪ কাউন্সিলর ছাড়াও ম্যানেজার কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলার কথা শুনেছেন তারা। তারা বলছেন, সওজের জায়গা দখল করা নিয়ে দোকান ভাংচুরের ঘটনার জেরেই হয়তো সাজানো ডাকাতি মামলা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন অনেকেই। মামলার একাধিক সাক্ষীরা জানান, তারা ডাকাতির খবর শুনেন নি। এরপরও ডাকাতি মামলার বাদী মাহমুদ ইসলাম মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। তবে, সংবাদে থানার ওসি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, হুমকি ধামকির ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়ে আমার কাছে কেউ কিছু জানান নি।
এব্যাপারে কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের জহির উদ্দিন দেওয়ান জানান, ভুল নামে আমার ছেলেকে ডাকাতি মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। আমি ও আমার ছেলে এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আর ৪ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা করা ঠিক হয়নি। তারা জনপ্রতিনিধি এবং তাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। সুষ্ঠ তদন্ত হলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
এবিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম বাদশাহ বলেন, বিজ্ঞ আদালত হতে মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এমন নির্দেশনা পেয়ে থানায় মামলা রেকর্ড করে তদন্তের জন্য এসআই সাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের লক্ষ্যে এখন কিছুই জানানো সম্ভব নয় বলে জানান ওসি।