দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন জনপদে শুরু হয়েছে সংঘবদ্ধ ভূমি দস্যুদের অপতৎপরতা। এ সংঘবদ্ধচক্র খুলনার ভূমি সংক্রান্ত নানা সরকারি দপ্তরের দালালদের সাথে গোপন আঁতাত করে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে অবৈধভাবে ভূমির মালিক বনার চেষ্টা করছে। কোথাও অর্পিত সম্পত্তি, কোথাও বিনিময় সম্পত্তি, কোথাও শত্রু সম্পত্তি আবার কোথাও খাস খতিয়ানের সম্পত্তি সর্বত্র ভূমি দস্যুদের নগ্ন থাবা শুরু হয়েছে। ভূমি দস্যুদের অপতৎপরতা সমাজে টাকা ও পেশি শক্তির সাহায্যে এতই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে যে সমাজের সাধারণ মানুষ নির্বিকার হয়ে পড়ছে। এদের ব্যাপারে কথা বললে সরকারের নানা মহলে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদের নানা ভাবে হয়রানি করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় তেমনি একটা ঘটনা দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের খুবই কাছের ও পাশের। দিঘলিয়া উপজেলার ৩ নং সদর ইউনিয়ন এর ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় পৈত্রিক জমিতে থাকা গাছ কর্তনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের। অভিযোগের সুএে জানা যায় ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা শফিউদ্দিন এর দেবনগর মৌজার এস এ দাগ নং ২৩৫১,২৩৫২,২৩৫৩,২৩৫৪,২৩৫৫,২৩৫৮,১০৬৩,১০৬৪, আর এস খতিয়ান-৮০১,১২২৮, দাগ নং-১৭০৬,১৭০৮,১৬৮৫,১৬৮৬, জমির পরিমাণ মোট ৩৮ শতাংশ ওই শফিউদ্দিন যুগ্ম জেলা জজ আদালত খুলনা এর দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং-২০৫/২১২ এর মাধ্যমে ওই জমি পান। কিন্তু একই এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন (গেদু) জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ওই জমি আর এস খতিয়ান নিজ নামে রেকর্ড করেন, এবং ওই রেকর্ডের বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল খুলনা একটি মোকাদ্দমা ধার্য করা হয়। যাহার নং-১০৩/২০২০। মামলা টি চলমান রয়েছে এবং ওই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিবেশি সোহরাব হোসেন(গেদু)(৫০) ওই জমির ওপর থাকা অসংখ্য মূল্যবান গাছ জোরপূর্বক কর্তন করে যার বাজার মুল্য প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবিসিয়ে শফিউদ্দিন এর কন্যা নাসিমা বেগমে (৩৫) বাধা প্রদান করিলে নাসিমা বেগম কে অক্ষত ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি ধামকি প্রদান করে, একপর্যায়ে নাসিমা বেগম (৩৫) দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে এক সূত্রে জানা গেছে ঘটনাস্থল অর্থাৎ দিঘলিয়ার দেবনগর মৌজার ৭৮২ নং খতিয়ানের দাগ নম্বর ১০৬৩,১০৬৪,২২৮৩,২২৯৯,২৩৫৮,২৩৪০,২৩৩৬,২৩৫২ ও ২৩৫৩ মোট ০.৮১ একর সরকারের ভিপি সম্পত্তি, যা সরকার ৪০-৪২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইজারা দিয়ে আসছেন।ভূমি দস্যুরা ভুমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে ওই জমি বি.আর.এস চলাকালে তাদের নিজ নামে অবৈধভাবে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই সরকারি সম্পত্তি থেকে গাছ কেটে আত্মসাত করেছে।এবং ওই জমিগুলো খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দলিল তৈরি করছেন এবং করার অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। যা এলাকাবাসী দিঘলিয়া থানা ও সহকারি কমিশনার ভূমিকে অবহিত করা হয়েছে কিন্তু কোনো মহল এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না এমনটা জানিয়েছেন এলাকার বিজ্ঞমহল।
এক সূত্রে জানা গেছে, এ ভূমি দস্যুদের গাছ কাটার ব্যাপারে এবং অবৈধভাবে এসব জমির কাগজপত্র তৈরি করে জমি আত্মসাতের ব্যাপারে জোর তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিক তদন্তে সরকারি ভি.পি. তালিকা ভুক্ত জমি থেকে লাখ লাখ টাকার কর্তন করে আত্মসাৎ এবং ওই জমি আত্মসাতের অপতৎপরতা প্রমাণ পেয়েছেন।এলাকাবাসী এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আশু সংশ্লিষ্ট ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন, খুলনা জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।