খুলনার পাইকগাছায় বৈরি আবহাওয়া ও অনাবৃষ্টির পরও আমন ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কর্তন শুরু হয়েছে। তুলনা মূলক উঁচু ক্ষেতের আমন ধান কর্তন ও ঝাড়াই চলছে। তবে নিচু ও মৎস্য লিজ ঘেরে আমন ক্ষেতের ধানে ফুল ফুটছে ও দুধ এসেছে মাত্র। উঁচু ক্ষেতের ধান আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে কাটা সম্পন্ন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। অনাবৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার জন্য কৃষক সময় মত আবাদ করতে পারেনি। আগাম কিছু ক্ষেতে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেন। আর দেরিতে বৃষ্টি হওয়ায় নাবি আবাদ করতে হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্য এলাকা থেকে উপকূল এলাকায় প্রায় মাসাধিক পর কৃষি কাজের পরিবেশ তৈরি হয়। আবহাওয়া জনিত কারণ ও লোনা পানির মৎস্য লিজ ঘের গুলোতে দেরিতে আমনের আবাদ করা হয়। সে জন্য ধান কাটা দেরিতে শুরু হয়। নতুন আমন ধান আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আমন ধান মন প্রতি সাড়ে ৮শ থেকে সাড়ে ৯শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধানের থেকে গো খাদ্য বিচুলীর চাঁহিদা থাকায় কৃষকরা বেশী লাভবান হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৭ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে ধানের আবাদ সময়মত করতে পারেনি কৃষক। অনেক ক্ষেতে নাবি আবাদ হয়েছে। উপজেলায় উঁচু জমিতে প্রায় ৪০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে আর নাবিতে লাগানো ১০ ভাগ ধানে ফুল ধরেছে ও ২০ ভাগ ক্ষেতের ধানে দুধ হয়েছে। কর্তনকৃত ধানের হেক্টর প্রতি ফলন হাইব্রীড ৬.৪ মেট্রিকটন, উফশী ৫.৪ মেট্রিকটন ও স্থানীয় জাতের ৩.৮ মেট্রিকটন হারে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলার কয়েকজন কৃষক এফএনএসকে জানান, অনাবৃষ্টির পরও তাদের জমিতে আমনের ফলন ভালো হয়েছে। উপজেলার মটবাটি গ্রামের আলাউদ্দিন এফএনএসকে বলেন, তার ক্ষেতের ধান সবে ফুল ধরেছে। তাছাড়া মাজড়া পোকা লাগায় অতিরিক্ত পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেতের ধানে চিটার পরিমান বেশী হচ্ছে। এতে আবাদ করা খরচের টাকা ফিরে না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর সেই সাথে সরকারের বেধে দেওয়া দামের চেয়ে ধান উপাদনে খরচ বেশী পড়েছে বলে কৃষকরা জানায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর এফএনএসকে জানান, আমনের ফলন ভাল হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে আমন চাষের শুরুতে কিছুটা ব্যাহত হলেও পরে প্রযাপ্ত বৃষ্টিতে লবণাক্ত মাটি পরিশোধিত হওয়ায় আমনের ফলন ভাল হয়েছে।