পুঠিয়ায় সুদ কারবারিদের নিকট উপজেলার শতশত মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। কোনো ব্যক্তির বেশি প্রয়োজনে কিংবা বিপদে পড়ে সুদ নিয়ে মানুষ সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। সুদ নেওয়া ব্যক্তিরা, লোকলজ্জায় এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে বেশিরভাগ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট অভিযোগ করেন না। জিতেন ধর পুঠিয়া বাজারের একজন জুয়েলারী ব্যবসায়ী। কয়েকজন চিহ্নিত সুদ কারবারিদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সঠিক সময়ে টাকা দিতে না পাড়ায়। সুদ কারবারীদের হুমকিতে, বাধ্য হয়ে প্রায় কোটি টাকার আধুনিকমানের একটি বাড়ি রেখে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। জিতেন ধরের মতো, উপজেলায় একাধিক ব্যক্তির গল্প হড় হামেশাই শুনা পাওয়া যাচ্ছে। সাতজন ব্যবসায়ী মিলে ঝলমলিয়া বাজারে একটি সমিতি গঠন করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক কোনো ব্যক্তি বেশি টাকার প্রয়োজনে কিংবা বিপদে পড়লে,তাদের নিকট ১০ লাখ টাকা সুদ নিলে সপ্তাহে এক লাখ টাকা দিতে হয়। এই সুদ চক্র গ্রুপটি পুঠিয়া সদরে বিভিন্ন স্থানে কয়েক কোটি টাকার বাড়ি,জমি কিনেছে। ঝলমলিয়া বাজারের একজন পেট্্েরাল পাম্প ব্যবসায়ী অর্ধশতাধি ছোট ছোট সুদ কারবারিদের দিয়ে কোটি কোটি টাকার সুদের কারবার করছে। ক্ষুদ্র সুদ কারবারিদের নিকট সে চুক্তি করে রেখেছে। এলাকাবাসীরা বলছে, উপজেলার ভেতরে সবচেয়ে সুদের কারবার তারই বড়। পুঠিয়ার এমন এমন ব্যক্তিরা সুদের ব্যবসা করছে, দেখে বুঝার উপায় নেই এবং শুনলে অবিশ্বাস বলে মতে হয়। যাদের কিছই ছিল না, তারা সুদ কারবারি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। হাটে বস্তায় লবণ বিক্রি করা এক ব্যক্তির ছেলে,পুঠিয়া বাজারে জুয়েলারি ব্যবসার পাশাপাশি সোনার গহনা বন্ধকের ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। সে পৌর সদরে ১৫টি প্লট কিনেছে এবং শত কোটি টাকার মালিক। সোনার গহনা বন্ধক রাখার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে.চুক্তি মোতাবেক সুদসহ পরিশোধ করতে না পাড়লে, জুয়েলারি মালিকরা গহনা আর ফেরত দেওয়া হয় না। উপজেলায় জুয়েলারি ব্যবসার ফাঁদে পড়ে এলাকার মানুষের মুল্যেমান গহনা প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। শতকরা দুইজন বাদে, সবাই গহনা বন্ধকের নামে রমরমা সুদের কারবার করছে। বানেশ্বর বাজার, ধোপাপাড়া বাজার, পুঠিয়া রাজবাড়ি বাজার, ঝলমলিয়া বাজার, কানাইপাড়াসহ একাধিক স্থানের সুদ কারকারিদের নিকট টাকা নিয়ে শতশত সাধারণ মানুষ সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,থানায় কেউ সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে, সঠিক বিচার পায় না। সুদ কারবারিদের হাত অনেক লম্বা থাকায়, সুদ নেওয়া ব্যক্তিরা পেড়ে উঠে না। তারপর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয়ে,বেশিরভাগ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট অভিযোগ করেন না। অনেক সময়ে সুদের টাকা উঠাতে না পাড়লে,থানা পুলিশকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সুদ কারবারিরা ব্যাংকের ফাঁকা চেকে স্বাক্ষক,স্ট্যাম্পে চুক্তি করে, ধার বাবদ টাকা নেওয়ার কথা লিখে তারপর সুদের ওপর টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। পরিশোধ করতে দেরি করলে কিংবা দিতে না চাইলে থানায় অথরা কোর্টে মামলা করা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সোহরাওয়াদী হোসেন যুগান্তরকে বলেন,সুদ নেওয়া ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা আমাদের নিকট অভিযোগ নিয়ে আসেন না। আসলে সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।