খুলনার পাইকগাছায় হাট-বাজারে জমে উঠেছে অর্থকরী ফসল সুপারির হাট। উপজেলার অন্যতম প্রধান পাইকারি মোকাম কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বাজার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশে এবছর জনপদে সুপারির ফলন তুলনামূলক কম। এরপর শুরুতে বাজার দর ভাল না হলেও মৌসুমের শেষ সময়ে আশানুরূপ দাম পেয়ে সন্তুষ্ট বাগান মালিক থেকে শুরু করে খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ঠরা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার অন্তত ৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪০ হাজার ৪০০টি সুপারি বাগান রয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে কপিলমুনি, হরিঢালী, রাড়-লী ও গদাইপুর ইউনিয়নে সুপারি গাছ বেশি রয়েছে। আর চাঁদখালী ও পৌরসভার আংশিক এলাকায় সুপারি গাছ রয়েছে। লবণাক্ততার বিরূপ প্রভাবে অন্য ৬টি ইউনিয়নে সুপারি গাছ ভাল হয় না। সরেজমিনে উপজেলার কপিলমুনি, আগড়ঘাটা, গদাইপুর, বাঁকা, নতুন বাজার, রাড়-লীসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে মৌসুমের শেষ সময়ে বেশ চড়া দামে সুপারি বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার ব্যবসায়ীরা সুপারি পানিতে ভিজিয়ে (মজিয়ে-পঁচিয়ে) গুদামজাত করতে সুপারি সংগ্রহে হাট-বাজারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংশ্লিষ্টরা এফএনএসকে জানান, রাখি বা গুদাম ব্যবসায়ীরা বাজারে আসায় সুপারির দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কুঁড়ি (৫৫ গন্ডা) বা ২২০টি হিসেবে সুপারি বিক্রি হচ্ছে, সাইজ ও রং ভেদে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি সাইজের প্রতি কুঁড়ি সুপারি ২৮০ থেকে ৩৪০ টাকা ও ছোট (ছাট) প্রতি কুঁড়ি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মান অনুযায়ী কুঁড়ি প্রতি সুপারি কিনে সেগুলো উপজেলার কপিলমুনি, সোলাদানা, বড়দল, শান্তাসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে থাকেন। আর বড় ব্যবসায়ীরা মৌসুম জুড়ে সুপারি বিকিকিনির সাথে জড়িত। তবে রাখি বা গুদাম ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে সুপারি না কেনায় প্রথম দিকে সুপারির দাম তুলনামূলক কম থাকে। কেননা, প্রথম দিকের সুপারি পানিতে ভেঁজালে (পঁচালে) এর মাজ পঁচা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টরা আরো এফএনএসকে জানান, যে হাটে যেমন পরিমাণ ভাল সুপারি কিনতে পারেন সে অনুযায়ী গুদামজাত করে বাকি গুলো পরের হাটে পুনরায় বিক্রি করে দেন। তবে মৌসুম শেষে সুপারির দর পতন হলে অনেক সময় লোকসানও গুনতে হয়। সর্বশেষ রোববার ভোরে সরেজমিনে উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি বাজারে সুপারির হাটে কথা হলে একাধিক বিক্রেতা এফএনএসকে জানান, এ বছর সুপারির ফলন কম হয়েছে। তার উপর মৌসুমের প্রথম দিকে দাম কম ছিল। মাঝখানে দর উঠা-নামা করলেও শেষ সময়ে কয়েক হাটে সুপারি তুলনামূলক কম উঠলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে। গদাইপুরের সুপারি বাগান মালিক ও ব্যবসাযী ফারুখ হোসেন এফএনএসকে বলেন, অঞ্চল ভেদে চলতি বছর সুপারির ফলন কম-বেশি হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে মাঝ পর্যন্ত সুপারির দাম ওঠা-নামা করলেও শেষ সময়ে বাজার উর্দ্ধমুখি রয়েছে। স্থানীয় বাগান মালিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা এফএনএসকে জানান, এ অঞ্চলের সুপারির মান বেশ ভাল। বিশেষ করে এখানকার সুপারিতে কষ বেশি। ফলে এ অঞ্চলের সুপারির কদর বা চাহিদা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা। সারাদেশে সুপারির চাহিদা থাকলেও বৃহত্তর সিলেটে এর বহুমূখী ব্যবহার সেই প্রাচীনকাল থেকে। অতিথি আপ্যায়ণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ক্ষেত্রে সৌখিন এই খাদ্য বা নেশা পণ্যটির বিকল্প নেই। চায়ের শেষে যেমন সুপারির স্বাদ অসাধারণ তেমনি আহারের পর এক চিলতে বা ফালি পান মুখে না দিলেই যেন নয়। এক কথায় চিরচেনা রসনা বিলাসী বাঙালির সাথে পান মিশে আছে সেই প্রাচীনকাল থেকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম এফএনএসকে জানান, সুপারি এ অঞ্চলের একটি অর্থকরী গুরুত্বপূর্ণ ফসল। তাছাড়া এ এলাকার সুপারির মানও ভালো। তবে লম্বা সুপারি গাছ গুলো মরে যাওয়ায় অথবা কেঁটে ফেলায় নতুন করে সুপারির বাগান সৃষ্টি বা গড়ে উঠছে না। এ ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের পক্ষে নতুন নতুন সুপারির বাগান তৈরীর জন্য বাগান মালিক ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।