এ রকম আগুন আগে দেখেনি। দেখতে দেখতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। ফায়ার সার্ভিস না আসলে সব শেষ হয়ে যেতো। দিন মুজরির কাজে আর সংসার চলেনা৷ তাই নিজের বসত ঘরের পাশে ৬০ হাজার টাকা খচর করে একটি চায়ের দোকান করি। তিল তিল করে জমানো ৫০ হাজার টাকা, স্থানীয় সুদ ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে সুদে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ঘরটা তেরি করেছি। সমিতি থেকে ৪০ হাজার টাকা লোন নিয়ে দোকান শুরু করে ভালোই চলছিলো, প্রতিদিন ৭/৮ শত টাকা আয় করে। ভালোই চলছিলো পরিবারের ৮ জন সদস্যের আগুনে সব পুড়ে ছায় হয়ে গেছে। এক মাস হলো দোকান শুরু করেছি। চোখের সামনে স্বপ্ন পুড়ে ছায়। এখন কি ভাবে এত টাকা ঋণ শোধ করবো? এভাবে বলছিলেন কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ গ্রামের বাবু মোড়ল (৩৫) দেউলিয়া বাজারে আগুন লেগে তার চায়ের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।
নিজের বসত বাড়ির সাথে দেড় বছর আগে একটি চায়ের দোকান করে ভালো চলছিলো আবু সাইদের পরিবারের ৬ জন সদস্যের। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে দুইটা সমিতি থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি মনিটর ও দোকানের মাল তোলেন তবে আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে।
পাশের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডার বাস্ট হয়ে সওকত মোড়লের বসত ঘরে আগুন লাগে। ঘর থেকে কিছু বের করার আগেই মুহূর্তেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত কাল কের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই আমাদের।
মনিরুজ্জামান মুকুল ক্রোকারিজ সামগ্রী ব্যাবসায়ী পাশের ঘরে আগুন লাগা দেখে নিজের ঘরের মালামাল বের করার চেষ্টা করলেও বের করতে পারেন নি। আগুনের এত তীব্রতা যে মুহূর্তেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কয়রা মেন বাজারে ঘরের ভাড়া বেশি হওয়ায় দেউলিয়া বাজারে ৫০ হাজার টাকা অগ্রীম দিয়ে ১ হাজার টাকা প্রতি মাসের ভাড়া দিয়ে এবছর কুরবানি ঈদের পরে আমার দোকান এখানে নিয়ে আসছি। দোকানে থাকা সাড়ে ৪ লাক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মালামাল সব নষ্ট হয়ে যায়। কিছুই রক্ষা করতে পারেনি।
খুলনার কয়রার সদর ইউনিয়নের দেউলিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বসতবাড়ি, দোকান ও গোডাউন পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ীদের গোডাউনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রায় একঘন্টা চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল ও মনিরুল ইসলামের মৎস্য ব্যবসার ঘরে থাকা ককসেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে পাশ্ববর্তী একটি দোকানে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের লেলিহান শিখা তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় স্থানীয় শত শত মানুষ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে। দু’দিন আগে কয়রায় আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনের শিখা দেখে তাৎক্ষণিক ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রায় একঘন্টার অভিযানের পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়। কোন মানুষ হতাহত না হলেও আসবাবপত্র, অবকাঠামোসহ বসতঘর ও দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।