রাজশাহী পুঠিয়ায় রাতে পুকুরের মাছ লুট হওয়ার কারণে,মাছচাষীরা মাছ নিয়ে আতঙ্ক উৎকন্ঠার মাঝে প্রতিটি রাত অতিবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে। মাঝেমধ্যেই এই উপজেলায় কিংবা পার্শ্ববর্তী কোনো উপজেলার রাতের বেলা মাছ লুটের ঘটনা ঘটছে। উপজেলা মৎস অফিস সুত্রে জানা গেছে,দেশের ভেতরে তাজা মাছ উৎপাদন হয়। রাজশাহী এবং নাটোর দুই জেলায়। পুকুর থেকে উৎপাদন হওয়ার পর মাছগুলি তাজা অবস্থায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়ে থাকে। উপজেলায় ৭ হাজার ৭শত ৬২টি ছোট-বড় পুকুর রয়েছে। প্রতিদিন দুপুর হতে,গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কে শতশত ট্রাক তাজা মাছ ভর্তি করে,ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে দেখা যায়। এবছর মাছের দাম বেশি হওয়ায়, মাছচাষীদের ভেতরে আনন্দ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাজশাহী নাটোর এলাকায় মাছচাষ করে অর্থনৈতিকের চাকা সচল করে রেখেছে। বেশ কিছুদিন ধরে মাঝেমধ্যেই এই উপজেলায় এবং পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলায় রাতের বেলা পুকুরে জাল ফেলে নৈশ্য প্রহরিদের মারপিট করে, বেঁধে রেখে মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। ১৬ নভেম্বর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটে কবির হোসেন নামের ব্যক্তির পুকুরে ট্রাক রেখে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ লুট করেছে। ২৬ অক্টোবর উপজেলার ঢাকা রাজশাহী মহাসড়কের তারাপুর কালুশার পুকুর হতে দেলোয়ার হোসেন রাসেল নামের মাছচাষীর নৈশ্য প্রহরীকে বেঁধে রেখে দুই ট্রাক তাজা মাছ লুট করে নিয়ে গিয়েছে। এই রাতে তারাপুর বাজারের দক্ষিনে বুলবুলের পুকুর হতে মাছ নিয়েছে। ১৭ অক্টোবর উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলের শফিউল্লার নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের দুই ট্রাক মাছ দুই পুকুর হতে একই কায়দায় মাছ লুট করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছেন। একেরপর এক এলাকার মাছ লুটকরা বাহিনী কোনো প্রকার বাধা কিংবা আটক না হওয়ার জন্য। মাছচাষীরা প্রতিটি রাত তাদের আতঙ্ক উৎকন্ঠার ভেতর দিয়ে অতিবাহিত করতে হচ্ছে। আবুল কাশেম নামের মাছচাষী বলেন, পুঠিয়া হুট করে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মাছ লুটবাহিনী গড়ে উঠেছে। স্থানীয় একটি গ্রুপ দিনের বেলা বিভিন্ন অজুহাতে এলাকার কোনো পুকুরগুলোতে বড় মাছ আছে তা দেখে বেড়ান। তারপর সুযোগ বুঝে অভিনব কায়দায় ২০/২৫ জন মিলে আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে পাহাদাড়দের যিম্মি করে মাছ নিয়ে যায়। অস্ত্র থাকার কারণে,সাধারণ মাছচাষীরা কোনোরকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাড়ছে না। একাধিক মাছচাষীদের অভিমত রাত ১০টার পর মহাসড়ক দিয়ে কিংবা গ্রাম্য রাস্তাগুলি দিয়ে কোনো মাছের ট্রাক দেশের কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না। আর যদি যেতে হয় তাহলে,আগে থেকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়ে রাখতে হবে। তারপর,প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাছ লুট হওয়ার ব্যাপারটি গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে, মাছ লুট বন্ধ হবে না।
এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সোরহওয়ার্দী হোসেন বলেন, মাছ লুট ব্যাপার নিয়ে আমাদের নিকট কেউ আসেনি। আসলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করার হবে।