রংপুর নগরীর মডার্ণ মোড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি খাবার হোটেলসহ ১২টি দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে আগুনে পুড়ে পথে বসেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তারা বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাত পৌনে বারোটার দিকে মডার্ন মোড়ের জয়নাল আবেদীন ও কামরুল হাসানের দোকানে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে শাহিন হোটেলে আগুন ছড়ি পড়ে। এর পরেই স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা আগুনের বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। এরমই মধ্যে শাহিন হোটেল ছাড়িয়ে আজাদ হোটেল, রমজান আলীর দোকান, গোলাপ মিয়ার মাইক সেন্টার, শাহ আলম, রফিক, শাহিন, বাবুর দোকানসহ সহ আশেপাশের বিভিন্ন ধরনের ১২টি দোকানে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এতে হোটেল ও দোকান গুলোতে থাকা মালামালসহ নগদ টাকাও পুড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তরা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, রফিক মিয়া ও বাবুসহ কয়েকজন জানান,অগ্নিকাণ্ডে তাদের দোকানের সকল মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুড়ে গেছে নগদ টাকা। এতে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ধারদেনা করে দোকান চালাতেন। এখন কিভাবে দেনা শোধ করবেন, আর কিভাবে সংসার চালাবেন। এজন্য তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর বিভাগীয় উপণ্ডপরিচালক জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমাদের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পর বলা যাবে। অগ্নিকাণ্ডে দুটি হোটেল এবং ১২টি বিভিন্ন ধরণের সামগ্রীর দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছি।