বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং মহানগরীর ভূয়সী প্রশংসা করে সাংবাদিকদের বলেছেন, রাজশাহীতে খুব স্বল্প সময়ের জন্য সফরে এসেছি। এই সময়ের মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর অনেক এলাকা ঘুরেছি। শহরটি ঘুরে আমি সত্যিই খুবই মুগ্ধ হয়েছি। এর কারণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের চেয়ে রাজশাহী গ্রিন এবং ক্লিন সিটি। বিশেষ করে পরিপাটি এমন শহরের সাথে রাজধানী ঢাকার বিশাল ব্যবধান রয়েছে। আমি মনে করি, অন্যান্য শহর পরিচালনাকারীদেরকে রাজশাহীতে পরিদর্শন করা প্রয়োজন। এক কথায় মন্তব্য করলে এটাই বলতে পারি যে, রাজশাহী শহরের খুব উজ্জ্বল ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আরো বলেন, রাজশাহী বিভাগের পাবনায় অবস্তিত ইপিজেডে চায়নার ৫টি কোম্পানি কাজ করছে। এ ছাড়া আরও ৬টি কোম্পানি আসছে। আরও কোম্পানি বাংলাদেশের এই অংশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহী। বাংলাদেশে ব্যবসার ভালো পরিবেশ থাকায় আমরা আগ্রহী হচ্ছি। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে চায়না সরকারের অবদান ও সম্পৃক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এমন সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় নগর ভবনে মেয়রের দপ্তর কক্ষে বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূতকে আম আকৃতির শুভেচ্ছা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করেন রাসিক মেয়র লিটন। এ সময় রাসিক মেয়রকেও উপহার দেন চীনের রাষ্ট্রদূত।
বৈঠক শেষে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন সাংবাদিকদের বলেন, চায়না বর্তমানে আমাদের অত্যন্ত বন্ধু প্রতীম একটি দেশ এবং অন্যমত প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। অধিকাংশ বড় বড় অবকাঠামোগুলি তাদেও কোম্পানি বা তদের প্রকৌশলীদের মাধ্যমেই নির্মিত হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা উপকৃত হবো।
আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি রাজশাহী মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন উল্লেখ করে মেয়র লিটন আরো বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ও চায়নার সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তিতে পদ্মা নদীর পানি পাম্প করে গোদাগাড়ী পৌরসভা, কাটাখালী পৌরসভা, নওহাটা পৌরসভা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। সেটার বিষয়ে সর্বশেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবশেষ একটা স্বাক্ষর হলেই চায়নিজ এক্সিম ব্যাংক প্রথম কিস্তিটি ছাড় করবে।
মেয়র আরো বলেন, রাজশাহী মহানগরীর সলিড বর্জ্য যেগুলো আমরা ট্রিটমেন্ট না করে ফেলে দেই। সেগুলো সারা বিশে^ টিটমেন্ট করে রি-ইউজের মাধ্যমে জ¦লানী ও জৈবসার তৈরি করা হয়। আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতকে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছি। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীন সরকার ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে শহরের যত বর্জ্য পানি তা ড্রেনের মাধ্যমে বাইরে দিয়ে দেই। তবে তা ট্রিটমেন্ট করে কৃষি কাজে ব্যবহারের উপযোগী করার বিষয়য়েও কথা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আমাদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়েছেন। মেয়র লিটন বলেন, বাংলাদেশের জুুটমিল, সুগারমিল টেক্সটাইলমিল কন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এগুলো চায়না সরকারের সাথে চুক্তি করে ইজারা ভিত্তিক দেয়ার মাধ্যমে নতুন করে পরিচালনা সুযোগ করা হয়। তারা বলেছেন, চায়না প্রস্তুত আছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে প্রস্তাব দিলে তারা তা গ্রহণ করবে।
এরআগে চীনের রাষ্ট্রদূতের আগমনে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রাসিকের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাবৃন্দ। বর্ণাঢ্য আয়োজনে চীনের রাষ্ট্রদূতকে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলী, প্যানেল মেয়র-৩ তাহেরা খাতুন মিলি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিন, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান আলী, জোন কাউন্সিলর উম্মেল সালমা বুলবুলি, আয়েশা খাতুন, প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার, প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং এডভাইজার আশরাফুল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ নূর-ঈ সাঈদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিশু।