রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে আয়োজিত প্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে এক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠানে উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে এদেশে শিশু মৃত্যু হার কমানোর অর্জন সম্ভব হয়েছে। রোববার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় আয়োজিত ‘ব্রিংগিং টেকনোলজি এ- পাবলিক হেলথ আন্ডার ওয়ান আমব্রেলা ইন বাংলাদেশ: ব্রেকিং ব্যারিয়ার্স শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। কারণ, আমরা আমাদের নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিনা। আমাদের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপি’র ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আমরা সেটারও যথাযথ ব্যবহার করতে পারিনা। যে কারণে এটা আমাদের জাতীয় একটা সমস্যা বলা যায়। তবে আশার কথা হলো ২০০৫ থেকে ২০১৭ সালে আমাদের আয়ুষ্কাল ছিল ৬৩ বছর। এখন সেটা ৭৩ বছর হয়েছে। আর ২০০৫ সালে শিশু মৃত্যু হার ছিলো হাজারে ৫২ জন, এখন সেটা ২৪ জন। এছাড়াও ২০০৫ সালে মাতৃমৃত্যু হার ছিলো প্রতি লাখে ৩৪৮ জন, এখন সেটা কমে প্রায় ১৪৮। আর এই অর্জন আমাদের সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই সম্ভব হয়েছে।
উপাচার্য আরো বলেন, মানুষ পরাজিত হওয়ার জন্য জন্ম নেয়নি। প্রতিনিয়ত বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াই মানুষের ধর্ম। আর বিজ্ঞানের মূল কাজ হলো হৃদয়ের অন্ধকার দূর করা। এখানে মূখ্য ভুমিকা হলো বিজ্ঞানীদের।
প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর তানজিমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. সুলতান-উল-ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সেঁজুতি সাহা। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা ছিলেন ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক আরিফ মোহাম্মদ তন্ময় ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট নাজিফা তাবাসসুম।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে, যার ফলাফল সুদূরপ্রসারী। একসময় চিকিৎসার জন্য মানুষ ফকির কিংবা কবিরাজের কাছে যেত, ফলে অনেক সময় তারা মনগড়া ও অপচিকিৎসার কবলে পড়তো। এসব চিকিৎসা প্রায়ই ছিলো স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক, এমনকি কখনো কখনো প্রাণহানির কারণ হতো। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে সেই অবস্থার বেশ পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি অনেক নিখুঁতভাবে রোগ সনাক্ত করছে এবং গবেষণার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ আবিষ্কার হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্য একে-অপরের পরিপূরক হয়ে পড়েছে। তাই প্রযুক্তির জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জনস্বাস্থ্যসেবাকে এগিয়ে নেয়া এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন উপ-উপাচার্য।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ড. সেজুতি সাহা বলেন, যেখানে বেশি প্রযুক্তি আছে, সেখানে রোগী কম। আর যেখানে বেশি রোগী আছে, সেখানে প্রযুক্তি কম। তবে বর্তমানে এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এই গ্যাপটা আমাদের দূর করতে হবে। এ সময় বাংলাদেশি শিশুদের চিকনগুনিয়া ও মেনিনজাইটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা ও সম্ভাবনা এবং এক্ষেত্রে নিজের সাফল্য নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তির সাথে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক অনেক। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, গবেষণার ক্ষেত্র তত প্রসারিত হচ্ছে, নিত্য নতুন আবিষ্কার সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন রোগ সনাক্ত করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বাংলাদেশের শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছি, টাইফয়েড, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ সনাক্তকরণ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকরী সমাধান দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে এসব কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ কম ও দাম বেশি, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অপ্রতুল ইত্যাদি। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা দেশে তরুণদের প্রকৃত বিজ্ঞান চিন্তায় অনুপ্রেরণা দিতে দিতে চাই, যাতে একঝাঁক তরুণ বিজ্ঞানী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।