রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নান্দিগ্রাম দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসীরা। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো ব্যক্তি কথা বললে কিংবা মাদ্রাসা সংক্রান্ত কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুধুমাত্র অধ্যক্ষের খারাপ আচারণের কারণে,এলাকার কোনো নতুন ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছে,বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ২০-২৫ ছাত্রছাত্রী ক্লাসে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাদ আলী বলেন, নান্দিগ্রাম মাদ্রাসাটি অধ্যক্ষ মুসা মিয়ার বাবা পৈত্রিক সম্পত্তি। এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে বললে,সে মামলা করে রেখেছেন। সে অন্যায় করলে, তার বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করা যাবে না। মামলার ভয়ে বর্তমানে কেউ তার বিরুদ্ধে যাচ্ছে না। মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী খুবই কম। তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষকে মূল্যায়ন করে না। মাদ্রাসায় সে ছাড়া আর কোনো ব্যক্তির কথায় মাদ্রাসা চলে না। দুর্গাপুর উপজেলা ভেতরে,এক সময়ে নান্দিগ্রাম নামকরা মাদ্রাসা ছিল। অধ্যক্ষ মুসা এখানে আসার পর থেকে মাদ্রাসার করুনদশায় পরিণতি হয়েছে। অধ্যক্ষ তার ইচ্ছামতো মাদ্রাসাটি যা খুশি তাই করেন। সাবেক ইউপি সদস্য জফির উদ্দিন তিনি বলেন,মাদ্রাসায় আমি কিছুদিন সহ-সভাপতি ছিলাম। শিক্ষকদের বিভিন্ন অজুহাতে বিল বন্ধ করে রাখত। বর্তমানে মাদ্রাসার পরিস্থিতি খুবই খারাপ অবস্থায় চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকরা জানায়, নিয়োগ দেওয়াসহ মাদ্রাসার কোনো প্রকার হিসাব আমাদের দেয় না। প্রতিষ্ঠান বিষয়ে কোনো রকম প্রতিবাদ করলে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ফেলেদেন তিনি। আজমত আলী নামের ব্যক্তি বলেন,মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে শুধু আমি নয়, এলাকার যে ব্যক্তিগুলি মাদ্রাসা সংক্রান্ত প্রতিবাদ করেছেন,সে ব্যক্তিরায় মামলায় পড়েছেন। আমি নিজেও ছয়টা মামলার ভুক্তভোগী। আমার বাবার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। মাদ্রাসার গেটের সামনে আরো কিছু দোকানদার আছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মামলা ভুক্তভোগী। যেহুতু আমাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা দুই একটা ভালোমন্দ কথা বলতেই পারি, আর সেটা বললে,আমাদের অন্যায় হয়ে যায়। তার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার শিবপুরে। আমাকে তার বাড়ির নিকটে পেলে গুম করা হবে। বর্তমানে আমি আতঙ্কের ভেতরে আছি। আজমত আলী আরো বলেন, নান্দিগ্রাম দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসায় প্রতিদিন সর্বমোট মাত্র ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। আর আমার জানা মতে শিক্ষক কর্মচারী মিলে ২০থেকে ২২ জনের মতো হতে পাড়ে। অনেক শিক্ষক আছে, তারা মাদ্রাসায় আসেন না। কিন্তু মাস শেষে বেতন উঠান। গত দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসা হতে মাত্র চারজন ছাত্র পরীক্ষ দিয়েছে,বাকি ৯ জন ছাত্রছাত্রী অন্য মাদ্রাসার ভাড়াটিয়া ছাত্রছাত্রী ছিল। এই প্রতিষ্ঠানে কোনদিনই ১৬ ডিসেম্বর, ২৬শে মার্চ জাতীয় দিবসগুলো পালন হয় না। তবে আমি একবার ১৬ ডিসেম্বর পালন করার দাবি করে ছিলাম। তখন অধ্যক্ষ মুসা বলেন, তুমি কী চাঁদা চাইতে এসেছ। নবম শ্রেণীর ছাত্রী রিপা খাতুন বলেন, আমার রোল নন্বার এক। আমার ক্লাসে আমি একাই। আর অন্যান্য ক্লাসে প্রতিদিন আট থেকে দশ জন করে মাদ্রাসায় আসে। স্থানীয়রা জানায়, শিক্ষকরা টাকা দিয়ে বাহির থেকে ছাত্রছাত্রী এনে পরীক্ষা দিয়ে পাস করায়। আমাদের গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ে বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী আলিপুর মাদ্রাসা,বেলঘড়িয়া মতো প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। নিয়োগ দিয়ে প্রাথীদের নিকট থেকে টাকা নেয়। কিন্তু মাদ্রাসার কোনো রকম উন্নয়ন করে না। এ বিষয়গুলো গ্রামের মানুষ বললে, তখন অধ্যক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। এলাকার মোশারফ,আজাদের ওপর মামলা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ জন ব্যক্তির ওপর মামলা দিয়েছিল। এ বিষয়ে নান্দিগ্রাম দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ মুসা মিয়ার মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের নাম পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের লাইন কেটে দেয়। এরপর, একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ ব্যাপারে নান্দিগ্রাম দারুস সালাম আলিম মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি এই মাদ্রাসায় নতুন সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। আমি একাডেমিকের এত কিছু বুঝিনা। অধ্যক্ষ নিজেই মাদ্রাসাটি চালায়।