খুলনার পাইকগাছায় থেমে থেমে চতুর্থ দিন পর ৫ম দিনে প্রভাতে স্মরণকালের ভয়াবহ বর্ষণের সাথে মেঘের গর্জন হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ প্রবল বৃষ্টিতে নীচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বহু মৎস্যসহ চিংড়িঘের ভেসে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, পুকুর-জলাশয়। ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অনেকর বাড়ী ঘরে উঠানে পানি উঠে যাওয়ায় দুর্ভোগ পড়ে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পানি নিষ্কাশনে নেট-পাটা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। গত রোববার থেকে লঘুচাপের প্রভাবে অত্র উপজেলার সবখানে টানা ৪দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পর ৫ম দিনে ভোররাতে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। এতে সবুজ প্রকৃতি সতেজতা ফিরে পেলেও ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতিসহ দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে একাধারে ৪ ঘন্টা প্রবল বৃষ্টি হয়। এতে পৌরসভাসহ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের নীচু এলাকায় জলাবদ্ধতা, রাস্তা-ঘাঠ ও মংস্যঘেরসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বরুণ মন্ডল বলেন, বর্ষার সব ঘাটতি আজ পূরণ করেছে প্রকৃতি। একই ইউনিয়নের সাংবাদিক মো. ফিরোজ আহমেন বলেন, তাদের ১৫ বিঘাসহ ইউনিয়নের হাজার বিঘা ঘের ভেসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লতা ইউনিয়নের গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কত ভয়ংকর রকমের তা আজ বুঝাগেছে। একই ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের জয়ন্ত মন্ডল বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে ইউনিয়নের বহু মৎস্যঘের ভেসে গেছে। কাঁচা রাস্তা নষ্ট হয়ে চলাচলে অনুপযোগী হওয়াসহ অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের মাটির ঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছ্।ে কপিলমুনি বাজারের ব্যবসায়ী প্রভাত বসু বলেন, বাজারে অনেক ব্যবসায়ীর দোকানে পানি প্রবেশ করে মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আরো বলেন, প্রবল বর্ষণে কাদামাটি ও নোংরা পানিতে বাজারে আসা ক্রেতাসহ দোকানীদের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে। ইউনিয়নের পাশাপাশি পৌরসভার গোপালপুর, সরল, বাতিখালী ও শিববাটী এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। সরল এলাকার অনিল কুমার মন্ডল জানান, টানা বৃষ্টিতে যে পানি জমেছে তা নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নাই। শিক্ষার্থী মারিয়া জানান, বাড়ির সামনে জমে থাকা পানি পাড়ি দিয়ে স্কুল কলেজে যেতে হচ্ছে। কাউন্সিলর এসএম তৈয়েবুর রহমান জানান, পশ্চিম পাশের বিলের মধ্যে যারা বসবাস করে এবং শান্তির মোড়, গগন বাবু রোডে বেশ কিছু বাড়ীতে পানি উঠেছে। রবি শংকর মন্ডল জানান, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ ও সানফ্লাওয়ার স্কুলের আশপাশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আবদুস সালাম কেরু জানান, যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা ছিলো সেসব এলাকার খালের নেট-পাটা অপসারণ আগেই করা হয়েছে। চাঁদখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাদা মো. আবু ইলিয়াস বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতি হলেও পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী নেট-পাটা অপসারণ কয়েকদিন আগে থেকে অব্যাহত আছে। মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, পৌরসভার যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এসব এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাড়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের কোনো জায়গা না রেখেই প্রাচীর দিয়ে পাঁকা বাড়ী-ঘর নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম জানান, বর্ষার সাথে সাথে খালের নেট-পাটা অপসারণসহ পানি নিষ্কাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।